রাশিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে ইউক্রেনকে বাইডেনের অনুমতি, চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১৮ নভেম্বর ২০২৪ ১৭:৩৭

সংগৃহীত ছবি সংগৃহীত ছবি


ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম বা এটিএসিএমএস) ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার মূলভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম।

এমন সিদ্ধান্ত বাইডেন প্রশাসনের আগের কিছু কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর আগে, একই ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে অত্যাধুনিক এইচআইএআরএস, আব্রাহাম ট্যাংক এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদনের পর ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছিল ইউক্রেন। সেই সময়ও প্রথমে ওয়াশিংটন তা নাকচ করে দেয়, পরে অনেক দিনের আলোচনা ও পর্যালোচনার পর অনুমোদন দেয়।

তবে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অত্যাধুনিক আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম-এর মাধ্যমে রাশিয়ার ভূ-অভ্যন্তরে আঘাত হেনে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারবে কিনা।

 এই ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। এর মানে হচ্ছে ইউক্রেন এসব খুব বেশি পরিমাণে পাবে না। এগুলোর আঘাত হানার রেঞ্জ ১০০ কিলোমিটার বা ৬২ মাইল, যা রাশিয়ার মূলভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে। তবে সীমিত সংখ্যক এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের সার্বিক পরিস্থিতি পাল্টে দেয়া কিয়েভের জন্য কঠিন হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর হয়ত শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে উত্তরাধিকারসূত্রে তাকে এমন একটি যুদ্ধ পরিস্থিতি মাথায় নিয়ে দায়িত্ব শুরু করতে হবে যা মোকাবিলা করা তার জন্য চ্যালেঞ্জিং। কারণ ইতোমধ্যে এই আঞ্চলিক যুদ্ধে ঝুঁকি এবং উত্তেজনা চরম মাত্রায় পৌঁছে গেছে।

১৭ নভেম্বর, রোববার সংবাদমাধ্যম সিএনএনে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক নিক প্যাটন ওয়ালস-এর বিশ্লেষণধর্মী এই লেখায় উঠে এসেছে কীভাবে বাইডেন প্রশাসনের এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি যুদ্ধক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির কার্যকারিতা সীমিত হলেও এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের উত্তেজনা আরও চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ এটি কিয়েভকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে আঘাত হানার সুযোগ করে দিচ্ছে।

একইসঙ্গে, রুশ বাহিনীর সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের ঐক্যমত এ যুদ্ধকে আরও বৈশ্বিক করে তুলেছে। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তাকে এমন একটি যুদ্ধ পরিস্থিতি সামলাতে হবে যেখানে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: