ফাইল ছবি
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই রেকর্ড স্পর্শ করার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘটনা। এ সময়ে হাজার হাজার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক স্বেচ্ছায় নিজেদের নাগরিকত্ব কিংবা স্থায়ী বাসিন্দার অধিকার বর্জন করেছেন।
সাপ্তাহিক সাময়িকী নিউজউইকের চলতি সংখ্যায় জানানো হয়েছে, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টে প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টারের তালিকায় মোট ৪,৫৭৪ জন নাগরিকত্ব ত্যাগকারী ব্যক্তির নাম উঠেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তালিকায় এসেছে ১,৩৩১ জনের নাম। এর আগে প্রথম তিন মাসে ১,৪৬২ জন এবং দ্বিতীয় তিন মাসে ১,৭৮১ জন নাগরিকত্ব বর্জন করেছিলেন। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর নাগরিকত্ব ছাড়ার হিড়িক স্পষ্টতই অস্বাভাবিক রকম বেশি।
স্বেচ্ছায় জন্মভূমির সঙ্গে বাঁধন ছেঁড়ার এই তালিকার পেছনে বড় কারণ জটিল কর ব্যবস্থা। গ্রিনব্যাক এক্সপ্যাট ট্যাক্স সার্ভিসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই সংখ্যাটি বছরে গড়ে ৫০০-র নিচে ছিল। তবে ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে 'ফ্যাটকা' (FATCA) আইন পাসের পর চিত্রটি বদলে যায়। এই আইনের মাধ্যমে বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের সমস্ত আয় ও সম্পদের তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কাছে পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়। ফলে বিদেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর করের বোঝা ও আইনি বাধ্যবাধকতা দুটোই চেপে বসে।
বিশেষ করে পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকা হোক না কেন, উপার্জিত প্রতিটি পয়সার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কর দেওয়ার নিয়মটি বহু মানুষের বিরক্তির কারণ। সেই সঙ্গে যাদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম হলেও কখনো সেখানে থাকা হয়নি, সেই 'দুর্ঘটনাবশত আমেরিকানদের'দের ক্ষেত্রে এ আইন বন্ধন পুরোপুরি ছিন্ন করার বড় উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নীতিগত অসন্তোষও এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে নিজের দেশের প্রতি মানুষের আবেগীয় টান অনেকটাই হালকা হয়ে আসছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতি ও সাম্প্রতিক রাজনীতির হালচাল পছন্দ না হওয়ায় অনেকেই তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার খরচ কমাও এই তালিকায় গতি এনেছে। এতদিন নাগরিকত্ব ছাড়ার আবেদনের জন্য দিতে হতো ২,৩৫০ ডলার, যা সম্প্রতি কমিয়ে মাত্র ৪৫০ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফি কমে যাওয়ার পর যারা এতদিন নাগরিকত্ব ছাড়তে চাইলেও খরচের কারণে ইতস্তত করছিলেন, তারাও এবারে দ্রুত নাম তুলে নিচ্ছেন তালিকা থেকে। ফলে আগামী দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে।