ফাইল ছবি
'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দটি ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শব্দটির পরিবর্তে তিনি তার পছন্দের পরিভাষা—'সুপার ইন্টেলিজেন্স' ব্যবহারের পক্ষে জোর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল কবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে (এআই) সুপার ইন্টেলিজেন্স (এসআই) নামে ডাকা শুরু করবে?—এআই একটি অত্যন্ত বাজে ও ভুল নাম। অন্য সবাই এসআই নামটিই ব্যবহার করছে বা শীঘ্রই করবে।'
তিনি আরও লেখেন, 'খুব শিগগিরই আমরা ভুল ও ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে সব প্রাসঙ্গিক নথি এবং অন্য সবকিছুতে আনুষ্ঠানিকভাবে 'এআই/আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছি।'
রাতের খাবারে কী রান্না করা যায় তা চ্যাটবটকে জিজ্ঞাসা করা থেকে শুরু করে দাপ্তরিক ইমেইল বা সম্পর্কচ্ছেদের বার্তা লেখার মতো মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের বহু ক্ষেত্রে ঢুকে পড়েছে এআই। ফলে পরিভাষাটি ঘরে ঘরে পরিচিত এক নামে পরিণত হয়েছে, যা মুছে ফেলা বেশ কঠিন।
তবে ট্রাম্প ঠিক সেই কাজটি করতেই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রুথ সোশ্যালের আরেকটি পোস্টে অদ্ভুত দাবি করে ট্রাম্প বলেছিলেন, হোয়াইট হাউস মনে করে যারা 'সুপার ইন্টেলিজেন্স'-এর জায়গায় 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ ব্যবহার করে, তারা আসলে 'শত্রু!'
ট্রাম্প ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স'-এর পরিবর্তে 'সুপার ইন্টেলিজেন্স' পরিভাষাটি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।
গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এক নির্বাহী আদেশে প্রেসিডেন্ট লেখেন, 'কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যবহৃত পরিভাষায় এই প্রযুক্তির রূপান্তরমূলক সক্ষমতা এবং আমেরিকানদের জন্য এটি যেসব সীমাহীন সুযোগ সৃষ্টি করছে তার প্রতিফলন থাকা উচিত।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'সেই অনুযায়ী 'সুপার ইন্টেলিজেন্স' পরিভাষাটি এই প্রযুক্তির প্রতিশ্রুতি, সম্ভাবনা এবং দ্রুত বিকাশমান সক্ষমতাকে আরও উপযুক্তভাবে ফুটিয়ে তোলে।'
'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিভাষাটি প্রথম তৈরি করেছিলেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক জন ম্যাককার্থি, ১৯৫৫ সালে। তিনি এটিকে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন 'বুদ্ধিমান যন্ত্র তৈরির বিজ্ঞান ও প্রকৌশল' হিসেবে।
কিন্তু দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতামত বিভাগে 'লেট এআই বি এআই' (এআইকে এআই-ই থাকতে দিন) শিরোনামে একটি নিউজলেটার প্রকাশের পরই নতুন পোস্টে পত্রিকাটির ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন ট্রাম্প।
জনপ্রিয় এআই ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা ওই নিউজলেটারে বলা হয়েছিল, 'এআই হিসেবে ডাকায় আমরা বেশ খুশিই ছিলাম। এটি আকর্ষণীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এআইকে নিয়ে মানুষ আতঙ্কিত থাকলেও সবাই জানে এটি কী।'
নিউজলেটারে আরও বলা হয়, 'মিস্টার ট্রাম্প এর বদলে 'এসআই' ব্যবহার করতে চান। এটি একটি বিরাট ভুল। এই নামটি ইতিমধ্যে অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে! আমরা স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড-এর সঙ্গে বিভ্রান্ত হতে চাই না। এছাড়া বিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতিও রয়েছে, যা ফরাসি ভাষায় সংক্ষেপে 'এসআই' নামে পরিচিত।'
এআই-এর নাম বদলানোর পেছনে ট্রাম্প এমন এক সময়ে তোড়জোড় শুরু করেছেন, যখন এই প্রযুক্তির কারণে মানবজাতির জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক-এর সাবেক কর্মী জ্যাকব কক্সন গত মাসে পদত্যাগের সময় সতর্ক করে বলেছিলেন, 'যারা এআই তৈরি করছেন, তারা আন্তরিকভাবেই বিশ্বাস করেন যে এই দশকের শেষ নাগাদ এটি আমাদের সবাইকে মেরে ফেলতে পারে।'
ইলন মাস্ক এবং স্যাম অল্টম্যানের মতো এআই শিল্পের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে ট্রাম্পের। প্রযুক্তিটি বাইরের সিস্টেমে হ্যাকিং এবং জৈব অস্ত্র তৈরির প্রশ্নের জবাব দিতে ব্যবহৃত হওয়ার মতো প্রতিবেদনের মধ্যেও তিনি এ সংক্রান্ত নিরাপত্তার উদ্বেগকে উড়িয়ে দিয়েছেন।
গত সেপ্টেম্বরে আইরিশ ওপেনে এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেছিলেন, 'এআই শিল্পের কি গতি কমানো উচিত নাকি এটিকে আরও বেশি নিয়মের আওতায় আনা উচিত?'
জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'এআই-তে আমরা চীনের চেয়ে এগিয়ে আছি। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক দেশ। এবং স্পষ্ট করে বললে, আমি এটিকে এভাবেই রাখতে চাই; কারণ এআই-তে যে জিতবে, সেই পুরো খেলায় জিতবে।'
তবে বেশিরভাগ আমেরিকানই প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। গত মাসে ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্ট-এর প্রকাশিত এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৩ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইস্যুটি ভালোভাবে পরিচালনা করেছেন; বিপরীতে ৫৭ শতাংশ মানুষ বলছেন তিনি বিষয়টি বাজেভাবে পরিচালনা করেছেন।