ফাইল ছবি
নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করলেও সেটিকে আমলে নেয়নি কানাডা। বরং হ্রদটির ঐতিহ্যবাহী নাম ‘লেক অন্টারিও’ বহাল রাখার বার্তা দিতে দেশটির তীরে বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
রোববার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার তীরে স্থাপিত ওই বিলবোর্ডে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, ‘লেক অন্টারিও। এখন এবং সবসময়।’
গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, নাম পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘যা যা করা দরকার ছিল, আমরা সবই করেছি।’
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে দাবি করা হয়, হ্রদটির সবচেয়ে গভীর অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সীমার মধ্যে অবস্থিত। তাই এর অধিকাংশ জলরাশির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে।
তবে এ দাবিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ কানাডা। অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্মের বহু আগে থেকেই এর নাম লেক অন্টারিও ছিল, আর তিনি চলে যাওয়ার অনেক পরেও এর নাম লেক অন্টারিওই থাকবে।’
একই সুরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও বলেন, হ্রদটির নাম ‘এখনও এবং চিরকাল’ লেক অন্টারিওই থাকবে।
মূলত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনার মধ্যেই এ বিতর্কের সূত্রপাত। বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর কানাডার ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আগামী মাসে সমপরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় কানাডা।
এরপরই গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ মালিকানাধীন লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। তবে কানাডার অবস্থান স্পষ্ট—তাদের কাছে হ্রদটির নাম ছিল, আছে এবং থাকবে ‘লেক অন্টারিও’।