মেইল-ইন ভোটিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চান ট্রাম্প

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৮ জুলাই ২০২৬ ২১:০১

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোট (মেইল-ইন ভোটিং) ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ কার্যকরের অনুমতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সোমবার বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করে, যাতে নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। প্রশাসনের দাবি, আগস্টের মধ্যেই নতুন নীতিমালা কার্যকর না হলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। এ আবেদনের বিষয়ে ৩ আগস্টের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

ট্রাম্প গত মার্চে এক নির্বাহী আদেশে যোগ্য ভোটারদের নিয়ে একটি ‘রাজ্য নাগরিকত্ব তালিকা’ তৈরির নির্দেশ দেন। ওই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের কাছেই ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর কথা বলা হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিভাগ এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য অঙ্গরাজ্যগুলোর সঙ্গে ভাগাভাগি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ডাক বিভাগের মাধ্যমে শুধু তালিকাভুক্ত ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠানো এবং প্রতিটি ব্যালটে ট্র্যাকিংয়ের জন্য স্বতন্ত্র বারকোডযুক্ত নিরাপদ খাম ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ফেডারেল অর্থায়ন স্থগিত হতে পারে।

এ নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে ২৩টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রশাসন মামলা করে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের নিয়ম নির্ধারণের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্য ও কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। তাদের আশঙ্কা, নতুন নিয়ম বাস্তবায়িত হলে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।

গত জুনে ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে নির্বাহী আদেশটি স্থগিত করেন। পরে ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের একটি বিভক্ত বেঞ্চ সেই আদেশ বহাল রাখে। তবে এর আগে ওয়াশিংটনের আরেক ফেডারেল বিচারক কার্ল নিকোলস ভিন্ন রায়ে বলেছিলেন, আদেশটি তখনও বাস্তবায়িত না হওয়ায় সেটি স্থগিত করার প্রশ্নটি সময়ের আগেই উঠেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাউয়ার সুপ্রিম কোর্টে বলেন, নির্বাহী আদেশটি কেবল সাধারণ নীতিগত নির্দেশনা, এটি অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর সরাসরি কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করে না। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এখনো আদেশ বাস্তবায়নের পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে। তাই আগাম স্থগিতাদেশ দেওয়া আইনগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই ডাকযোগে ভোটদান পদ্ধতির সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প। প্রমাণ ছাড়াই তিনি বারবার দাবি করেছেন, এ ব্যবস্থায় জালিয়াতির সুযোগ রয়েছে। যদিও তিনি নিজেও অতীতে ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন।

সোমবার মিশিগানে জেনারেল মোটরসের একটি কারখানায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আবারও ভোটার পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার পক্ষে কংগ্রেসকে আইন পাসের আহ্বান জানান। তিনি ডাকযোগে ভোটদানকে ‘স্বভাবগতভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি আশা করেন এ পদ্ধতিতে আর ভোট গ্রহণ করা হবে না।

তবে ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মোট ভোটের প্রায় ৩০ শতাংশই ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি এক কোটি মেইল-ইন ভোটে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে মাত্র চারটি।

এর আগে গত জুনে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, অঙ্গরাজ্যগুলো চাইলে নির্বাচনের দিনের পর পৌঁছানো বৈধ ব্যালটও গণনা করতে পারবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন নিয়মের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন—এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়া ঠেকানো। তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং এটি গুরুতর অপরাধ; দোষী প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড ও দেশ থেকে বহিষ্কারের মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।

চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কানসাস অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ডাক বিভাগের কাছ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাননি।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: