হরমুজে নিরাপদ নৌ যাতায়াতের নিশ্চয়তা দিতে ইরানকে সময় বেঁধে দিল যুক্তরাষ্ট্র

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১১ জুলাই ২০২৬ ১৯:২১

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং এ নৌপথে কোনো ধরনের হামলা বা টোল আদায় বন্ধের বিষয়ে ইরানকে শনিবার পর্যন্ত সময় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে হবে যে তারা আন্তর্জাতিক এই জলপথে জাহাজে হামলা চালাবে না এবং কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল আরোপের উদ্যোগও নেবে না।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের পাশাপাশি সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেও যুক্তরাষ্ট্র এই বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের শর্ত ভঙ্গ করে ইরান হরমুজ প্রণালিতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা হামলা-পাল্টাহামলাও হয়েছে, যা সাম্প্রতিক শান্তি উদ্যোগকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, এ সপ্তাহের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি আর বহাল নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে আরও জটিল, বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে, কোনো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হবে।

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর আল-বুসাইদির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগেই ওমান যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে নিজেদের উপকূলসংলগ্ন একটি বিকল্প দক্ষিণ নৌপথ ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। ইরানের দাবি, এতে হরমুজ ইস্যুতে তাদের কৌশলগত সুবিধা অনেকটাই কমে গেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরানের আলোচনাকারী প্রতিনিধিরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দেশটির অভ্যন্তরীণ কট্টরপন্থী গোষ্ঠী নিজেদের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জাহাজে হামলার পথ বেছে নিয়েছে। তবে প্রকাশ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানিয়েছেন, আরাগচির ওমান সফরের মূল উদ্দেশ্য সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা। তার দাবি, আন্তর্জাতিক এই নৌপথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ বিষয়ে ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করেছে এবং আলোচনা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের বক্তব্য, তারা কেবল কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের ভেতরেই মতবিরোধ রয়েছে। একটি অংশ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইলেও অপর অংশ কঠোর অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে।

ওয়াশিংটন আশা করছে, শনিবারের বৈঠকের পর ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবে যে হরমুজ প্রণালিতে আর কোনো হামলা চালানো হবে না এবং আন্তর্জাতিক এই নৌপথে কোনো ধরনের টোল আরোপ করা হবে না। একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান তাদের অবস্থান স্পষ্ট না করলে তার ফল তাদের জন্য সুখকর হবে না।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: