ফাইল ছবি
আমেরিকা, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনায় আগে থেকেই চাপে থাকা বৈশ্বিক ভ্রমণশিল্প নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে, এই ঘোষণা দিয়ে দেশটির ওপর আরও হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এই সর্বশেষ উত্তেজনা গ্রীষ্মের ব্যস্ততম ভ্রমণ মৌসুমে ব্যাঘাত ঘটাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য ভ্রমণ খরচ আরও বাড়িয়ে দেবে।
বুধবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অপরিশোধিত তেলের দাম ৪.৮৪ শতাংশ বেড়েছে, যা চাহিদা কমে যাওয়ার উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। আমেরিকার এনপিআর, এনপিআর, পিবিএস নিউজ ও মারিস্ট কলেজের যৌথ এক জরিপে দেখা গেছে, বিমানভাড়া ও গাড়ির জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ৪৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এ গ্রীষ্মে ভ্রমণে যাচ্ছেন না। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ কম।
ফিফা বিশ্বকাপ আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর অভ্যন্তরে এবং আন্তঃদেশীয় ভ্রমণ বাড়াবে বলে প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও এই মন্দা দেখা দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষণকারী সংস্থা সোজার্ন জানিয়েছে, বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে আকাশপথে যাত্রাকারীদের বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণকারী। কয়েক মাস ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিমান শিল্প ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকান-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আমেরিকান যাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া তীব্রভাবে বেড়েছে।
আমেরিকার শ্রম বিভাগের মূল্যস্ফীতি-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে বিমান ভাড়া ৮.২ শতাংশ বেড়েছে।
আমেরিকার সাশ্রয়ী একটি পরিষেবা ‘স্পিরিট এয়ারলাইন্স’ প্রায় তিন দশকের কার্যক্রমের পর মে মাসে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। দেউলিয়া ঘোষণার আবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে জেট জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে এই মন্দা আমেরিকার বিমান খাতের ওপর চাপ আরও দীর্ঘায়িত করবে।ব্যাংক অফ আমেরিকার বিশ্লেষকরা গত মাসে একটি নোটে বলেছেন, ‘ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী ভ্রমণের পূর্বাভাস অবনমিত হয়েছে। তেলের উচ্চমূল্য সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি এবং বিমানভাড়া বাড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে ভোক্তারা অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অনুভব করছেন।’
এদিকে, ইউরোপীয় বিমান সংস্থাগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। রাশিয়া, ইরান, ইরাক এবং লেবাননের উপর আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার কারণে তারাও দীর্ঘতর ফ্লাইট রুটের সম্মুখীন হচ্ছে, যা জ্বালানি খরচ এবং পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এপ্রিলে, লুফথাঞ্জা খরচ কমাতে এবং ৪০ হাজার টন জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস করতে স্বল্প-দূরত্বের ২ লাখ ফ্লাইট বাতিল করে। মে মাসে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানায়, মূল প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স গ্রুপের প্রায় ২ শ’ ২০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয়ের অংশ বহন করতে তারা ভাড়া সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। একই সংস্থার অধীনে আইবেরিয়া ও এর লিঙ্গাসও রয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধ ও বন্ধের কারণে এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ এবং এতিহাদ এয়ারওয়েজের মতো মধ্যপ্রাচ্যের বিমান সংস্থাগুলোও ব্যবসায় ধাক্কা খেয়েছে। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান নিরাপত্তা সংস্থা রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে সতর্কতা জারি করেছে।অন্যদিকে, এশিয়ার বিমান সংস্থাগুলো তুলনামূলকভাবে কম আকাশসীমা-সংক্রান্ত বাধার মুখে পড়েছে।
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, মার্চে তাদের ইউরোপগামী ফ্লাইটে আসন পূরণের হার ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এদিকে, বিমানভাড়া বেশি হওয়ায় বিশেষ করে সাম্প্রতিক ৪ জুলাইয়ের ছুটিতে অনেক আমেরিকা নাগরিক উড়োজাহাজের বদলে সড়কপথে ভ্রমণকে বেছে নিয়েছেন।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: