সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে দুই পক্ষ, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বাকি: ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৯ মে ২০২৬ ১৫:৫৬

সংগৃহীত সংগৃহীত

চলমান সংঘাত অবসান এবং একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো বেশ কিছু জটিল বিষয়ের সমাধান বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স স্পষ্ট করেন যে, এখনই নিশ্চিত করে কোনো সময়সীমা বা চূড়ান্ত ফলাফলের ঘোষণা দেওয়া সম্ভব নয়।

তবে প্রস্তাবিত এই রূপরেখার আওতায় চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোতে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়ে গেছে।

এর আগে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে, দুই দেশ একটি প্রাথমিক খসড়া চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, যা এখন শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে তেহরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি। গতকাল সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জেডি ভ্যান্সও স্বীকার করেন যে, আলোচকেরা এখনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা এবং বিদ্যমান মজুত সরিয়ে নেওয়ার মতো জটিল শর্তগুলো নিয়ে দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছেন। অবশ্য ওয়াশিংটন ডিসিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বেশ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রতিপক্ষ অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথেই এই টেবিলে আলোচনা করছে।

গত ৮ এপ্রিল প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বারবার সমঝোতার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও, এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল মেলেনি। অন্যদিকে এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে প্রশাসনের ওপর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। উপসাগরীয় মিত্রদের পাশাপাশি ডেমোক্র্যাট ও খোদ রিপাবলিকান দলের অনেক সদস্যই এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো মেলেনি। প্রকাশিত এই পরস্পরবিরোধী খবরগুলোই প্রমাণ করে যে, এই কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনো কতটা অনিশ্চিত ও পরিবর্তনশীল।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: