যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধে পরিণত হলো ইরান সংঘাত

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১৭ মে ২০২৬ ২১:০৫

ছবি: গ্রাফিক্স ছবি: গ্রাফিক্স
দৈনিক খরচের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধ হিসেবে নাম লিখিয়েছে ইরানের সাথে সাম্প্রতিক সঙ্ঘাতটি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সাথে এই স্বল্পমেয়াদি লড়াইটি কেবল মোট বাজেটের দিক থেকেই রেকর্ড ভাঙেনি, বরং প্রতিদিনের খরচের দিক থেকেও আগের সব যুদ্ধকে ছাড়িয়ে গেছে।
 
পরিসংখ্যান বলছে, এই সঙ্ঘাতের দৈনিক খরচ ইরাক যুদ্ধের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।
 
রোববার ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, স্বাধীন প্রতিবেদনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন গড়ে ১৮৮ কোটি ডলার খরচ করেছে। প্রায় ৪০ দিনের এই সামরিক আগ্রাসনে তারা ৪৫ বিলিয়ন বা সাড়ে চার হাজার কোটি ডলারের বেশি উড়িয়ে দিয়েছে। অথচ এর আগে ইরাক যুদ্ধে প্রতিদিন খরচ হয়েছিল ৬৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার, কোরিয়া যুদ্ধে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, আফগানিস্তান যুদ্ধে ৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধে দৈনিক খরচ ছিল মাত্র ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।সংবাদ বিশ্লেষণ
 
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন দাবি করেছে, গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির সময় পর্যন্ত তাদের মোট খরচ ছিল আড়াই হাজার কোটি ডলার। কিন্তু স্বাধীন সূত্রগুলো বলছে, সেই সময়েই প্রকৃত খরচ ৪৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার পার হয়ে গিয়েছিল। মাত্র ৪০ দিন স্থায়ী এই যুদ্ধের খরচ এখনো বেড়েই চলেছে।
 
সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধে এত নজিরবিহীন গতিতে বাজেট শেষ হওয়ার মূল কারণ ছিল হামলার তীব্রতা, অতিমূল্যবান নিখুঁত গোলাবারুদের ব্যবহার এবং এই অঞ্চলে বিমানবাহিনীর রসদ সরবরাহের বিশাল খরচ।
 
সরকারি হিসাবের সাথে স্বাধীন প্রতিবেদনের প্রায় দুই হাজার কোটি ডলারের এই গরমিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেটের স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
 
যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে সেন্টকমের কমান্ডার দাবি করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম ২৪ ঘণ্টার অভিযানের ব্যাপ্তি ছিল ইরাক আক্রমণের চেয়ে দ্বিগুণ। এটিই প্রমাণ করে যে এই যুদ্ধের খরচ যুক্তরাষ্ট্রের আগের কোনো যুদ্ধের সাথে তুলনীয় নয়।
 
আজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মোট খরচের দিক থেকে ইরাক যুদ্ধ দুই ট্রিলিয়ন ডলার এবং আফগানিস্তান যুদ্ধ দুই দশমিক তিন ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া কোরিয়া যুদ্ধে ৩৮ হাজার ৯০০ কোটি এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধে এক ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল। কিন্তু ইরানের সাথে সঙ্ঘাতটি সবচেয়ে কম সময়ের হলেও দৈনিক খরচের দিক থেকে দেশের সামরিক ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।
 
এই নতুন রেকর্ড ভবিষ্যতের যেকোনো সঙ্ঘাতের খরচ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এত দ্রুত গতিতে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে যে প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পুরো তিন বছরের চেয়েও বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
 
এর ফলে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য বলছে, এই সঙ্ঘাতের খরচ ইতোমধ্যেই আট হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে দু’দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক খরচ কিন্তু থামেনি, বরং তা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
 
এই পরিসংখ্যান পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে ইরানের সাথে এই যুদ্ধ যদি কোনোভাবে দীর্ঘায়িত হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় এমন এক নাটকীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে যা দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।


আপনার মূল্যবান মতামত দিন: