”ট্রাম্প প্রশাসনের সদস্যদেরই টার্গেট করেছিলেন বন্দুকধারী“

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৪০

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস’ ডিনারে হামলার চেষ্টায় বন্দুকধারীর উদ্দেশ্য হিসেবে ‘অ্যান্টি-ট্রাম্প’ বা ‘ট্রাম্পবিরোধী’ মনোভাব ছিল কি-না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ওই অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভবত ট্রাম্পসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সদস্যরা হামলাকারীর লক্ষ্য ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে যা বোঝা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে তিনি প্রশাসনের সদস্যদেরই টার্গেট করেছিলেন।’

হোটেল ভেন্যুতে নিরাপত্তা ভেঙে ঢোকার চেষ্টার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে। সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে আজ ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে। তার বিরুদ্ধে ফেডারেল কর্মকর্তার ওপর হামলা, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার এবং ফেডারেল কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও যুক্ত হতে পারে বলে জানান ব্ল্যাঞ্চ।

সন্দেহভাজন হামলাকারী কোল টোমাস অ্যালেন (৩১) ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্সের বাসিন্দা। তার লেখা একটি ‘ম্যানিফেস্টো’ বা ঘোষণাপত্র তদন্তকারীরা পর্যালোচনা করছেন। নিউইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত ওই ম্যানিফেস্টোয় সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন তিনি, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা শীর্ষে ছিলেন।

হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানান, গুলির ঘটনার প্রায় ১০ মিনিট আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের কাছে নিজের অভিযোগ-অভিমান ও ক্ষোভের কথা লিখে পাঠান। এরপর অ্যালেনের ভাই কানেকটিকাটের নিউ লন্ডন পুলিশকে বিষয়টি জানান।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি এক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টের দিকে শটগান থেকে গুলি ছোড়েন। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার সময় ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়। গুলিবিদ্ধ সিক্রেট সার্ভিস সদস্য বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পড়ে থাকায় তার আঘাত গুরুতর নয় বলে জানান ট্রাম্প।

হামলাকারী নিজেকে ‘ফ্রেন্ডলি ফেডারেল অ্যাসাসিন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, যা নিউইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত ম্যানিফেস্টোর বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গণমাধ্যম নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, অ্যালেনের লেখাগুলোয় ট্রাম্পবিরোধী মনোভাব ছিল, যা নিউইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত ম্যানিফেস্টোর বক্তব্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টও জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একই ধরনের লেখা তার পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়েছিলেন, যা ট্রাম্পের ফক্স নিউজে দেয়া বক্তব্যের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ।

ম্যানিফেস্টোতে তিনি নিজের পরিচিতদের কাছে ক্ষমা চেয়ে হামলার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। সেখানে তিনি বলেন, এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল ছাড়া প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা তার লক্ষ্য ছিলেন।

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজন না হলে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের টার্গেট করা হবে না। হোটেল নিরাপত্তাকর্মী, ক্যাপিটল পুলিশ এবং ন্যাশনাল গার্ড—তাদেরকে সম্ভব হলে আক্রমণ না করার কথা বলা হয়। হোটেলের কর্মী ও অতিথিরাও তার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না।

চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিক। জনপ্রতিনিধিরা যা করেন, তা আমার ওপরও প্রভাব ফেলে। আমি আর কোনোভাবেই এমন একজনের অপরাধের দায় নিজের ওপর নিতে রাজি নই।’

আরেকটি অংশে বলা হয়, ‘অন্য কেউ নিপীড়নের শিকার হলে মুখ ফিরিয়ে নেয়া খ্রিস্টীয় আচরণ নয়; বরং তা নিপীড়ককে তার অপরাধে সহযোগিতা করা হয়।’

ম্যানিফেস্টোতে ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সাম্প্রতিক ঘটনার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারী নৌযানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথাও রয়েছে। পরে তিনি লেখেন, ‘এ প্রশাসন যা করেছে, তা ভাবলেই আমি রাগে ফেটে পড়ি।’

গতকাল সিক্সটি মিনিটস অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হামলাকারীকে ‘অসুস্থ ব্যক্তি’। এ সময় উপস্থাপক নোরা ও’ডনেল ম্যানিফেস্টোর কিছু অংশ অন-এয়ারে পড়ায় ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, ওই রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ট্রাম্প বেশ শান্তভাবেই বর্ণনা করেন। গুলির শব্দ শোনার পর তিনি কতটা উদ্বিগ্ন ছিলেন—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি চিন্তিত ছিলাম না। জীবন এমনই, আমরা এক অস্থির পৃথিবীতে বাস করি।’

ধারণা করা হচ্ছে, অ্যালেন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ট্রেনে করে প্রথমে শিকাগো, তারপর ওয়াশিংটনে আসেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকে তিনি ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে অতিথি হিসেবে অবস্থান করছিলেন।

ফেডারেল এজেন্টরা মেরিল্যান্ডে অ্যালেনের বোনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানান, তার ভাই ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বন্দুকের দোকান থেকে আইনগতভাবে বৈধ কয়েকটি অস্ত্র কিনেছিলেন। সেগুলো টরেন্সে বাবা-মায়ের বাসায় তাদের অজান্তেই রেখে দিয়েছিলেন।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: