বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য যে প্রস্তাব পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৪৯

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নতুন নির্বাচিত সরকারকে বিভিন্ন সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির পর নড়েচড়ে বসেছে ট্রাম্প প্রশাসন। চীনা সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প হিসেবে নিজেদের ও মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারকে প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটি। ঢাকায় নিযুক্ত ওয়াশিংটনের রাষ্ট্রদূত এ কথা জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের আগস্টে জেন-জি নেতৃত্বাধীন এক গণঅভ্যুত্থানে ভারতপন্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হাসিনা দিল্লিতে পালিয়ে গেছেন। তার পলায়নের পর ভারতের প্রভাব হ্রাস পেতে থাকায় বাংলাদেশে চীন নিজেদের প্রভাব আরও বিস্তৃত করার সুযোগ পেয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন কারখানা নির্মাণে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে চীন, যা পশ্চিমা কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া চীন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রকল্প জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও আলোচনা চালাচ্ছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। চীনের সঙ্গে কিছু বিষয়ে সম্পৃক্ততার ঝুঁকি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার চাহিদা পূরণে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে থাকে। যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও মিত্র দেশগুলোর ব্যবস্থা। এসব চীনা ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন ও বাংলাদেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা করে আসছে, যা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক।

রয়টার্সকে দেয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, আমাদের পারস্পরিক উপকারী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়। তাই এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপও আমরা বরদাস্ত করব না।

ক্রিস্টেনসেন আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সমর্থনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক দেখতে চায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। হাসিনা দেশত্যাগের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অবনতি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ভিসা সেবা ও দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের ওপরও।

ক্রিস্টেনসেন জানান, অনেক যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে, তবে তারা চায় নতুন সরকার শুরুতেই স্পষ্ট বার্তা দিক যে দেশটি ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক কূটনীতি আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যে অগ্রগতি হয়েছে, বিশেষ করে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারে, তা এগিয়ে নিতে আমরা নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

জ্বালানি কোম্পানি শেভরন কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও অন্যান্য যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির উপস্থিতি তেমন দৃশ্যমান নয়। উচ্চ করহার ও মুনাফা দেশে ফেরত পাঠানোর জটিলতা বিনিয়োগে কিছু বাধা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশে স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের কোনো শাখা নেই।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারই নির্বাচিত করুক না কেন, ওয়াশিংটন সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে।

এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, মানবিক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সর্ববৃহৎ দাতা দেশ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বড় অবদান রাখছে এবং বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে শক্তিশালী কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি জাতিসংঘের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিল কাঠামোতে স্বাক্ষর হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের সহায়তার কার্যকারিতা বাড়াবে।

তিনি অন্যান্য আন্তর্জাতিক দাতাদের আরও বেশি দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানান। ক্রিস্টেনসেন বলেন, এই বোঝা একা যুক্তরাষ্ট্র বহন করতে পারবে না। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তা বাড়াতে হবে।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: