ফাইল ছবি
শিশুদের মধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আসক্তি তৈরির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে মেটা এবং ইউটিউবের বিচার কার্যক্রম। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালত খতিয়ে দেখছে, টেক জায়ান্টরা কি পরিকল্পিতভাবে শিশুদের আসক্ত করার মতো অ্যালগরিদম ও কনটেন্ট তৈরি করেছে?
মামলার প্রেক্ষাপট ও বাদীর অভিযোগ
২০ বছর বয়সী এক তরুণী (ছদ্মনাম কেজিএম) এই মামলার মূল বাদী। অভিযোগে বলা হয়েছে, মাত্র ছয় বছর বয়সে ইউটিউব এবং নয় বছর বয়সে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার শুরু করেন তিনি। বাদীর আইনজীবীদের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা বিশেষ সব কনটেন্টের কারণে তিনি ভয়াবহভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন, যা তার জীবনে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের গোপন রফাদফা
শুরুতে এই মামলার তালিকায় সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট টিকটক এবং স্ন্যাপচ্যাটও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই তারা বাদীর সাথে সমঝোতায় পৌঁছায়। শোনা যাচ্ছে, একটি বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তারা নিজেদের নাম এই মামলা থেকে সরিয়ে নিয়েছে, যদিও সেই অর্থের পরিমাণ এখনো অপ্রকাশিত।
মেটা ও ইউটিউবের আত্মপক্ষ সমর্থন
নিজেদের রক্ষায় মেটা দাবি করেছে, 'সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি' বিষয়টি এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। তারা বাদীর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোকে ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্যদিকে, ইউটিউব কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
বিচার প্রক্রিয়ায় যা থাকছে
আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি চলবে। ধারণা করা হচ্ছে, সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হতে পারেন মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার ফলাফল হবে যুগান্তকারী। যদি আদালত বাদীর পক্ষে রায় দেয়, তবে বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রম ও অ্যালগরিদমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে তারা বাধ্য হবে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: