ফাইল ছবি
ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির প্রথম ধাপ থেকে প্রাপ্ত পুরো ৫০ কোটি ডলার দেশটির সরকারের কাছে ফেরত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার এক আমেরিকান কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, সর্বশেষ ২০ কোটি ডলার সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তেল বিক্রির প্রথম পর্যায়ের পুরো অর্থ দেশটিকে ফেরত দেওয়া সম্পন্ন হলো।
আমেরিকান ঐ কর্মকর্তা বলেন, ভেনেজুয়েলা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ ৫০ কোটি ডলার গ্রহণ করেছে। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিবেচনায় ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে’ ব্যয় করা হবে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ছিল একটি স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশটির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সরকার পরিচালনা সচল রাখা এবং সাধারণ জনগণকে সহায়তা করা।
তিনি বলেন, মূলত আমরা ভেনেজুয়েলাকে তাদের নিজস্ব তেল ব্যবহার করে আয় করার সুযোগ দিয়েছি। এতে করে শিক্ষক, দমকলকর্মী ও পুলিশদের বেতন দেওয়া যায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হবে। ফলে পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে না।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, এই অর্থ কাতারে রাখা হয়েছিল এবং সেটিকে একটি ‘অস্থায়ী ও স্বল্পমেয়াদি তহবিল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ভেনেজুয়েলা সরকার যাতে প্রয়োজনীয় অর্থ পেতে পারে সেজন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তারা জানান, ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত একটি তহবিলে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ভেনেজুয়েলা সরকার ও তাদের বিভিন্ন সংস্থার ব্যয় মেটানোর অনুমোদন দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত মাসে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে হওয়া এক চুক্তির অংশ হিসেবেই এই তেল বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। ওই চুক্তিটি হয় ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: