বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনী নামানোর হুমকি ট্রাম্পের

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭:১৭

 ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে পর পর দুই ব্যক্তিকে গুলির পর অভিবাসন পুলিশ আইসিইর বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনী মোতায়েনে বিতর্কিত আইন ইনসারেকশন অ্যাক্ট ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যদি মিনেসোটার দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদরা আইন না মানেন এবং আন্দোলনকারী এবং বিদ্রোহীদের আইসিই-র দেশপ্রেমিক সদস্যদের ওপর আক্রমণ করা থেকে বিরত না রাখেন, তাহলে আমি ইনসারেকশন অ্যাক্ট চালু করব, যা আমার আগে অনেক প্রেসিডেন্ট করেছেন। এতে একসময়ের মহান এই রাজ্যে যে প্রহসন চলছে তার দ্রুত অবসান ঘটাব।’

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি পূরণে অভিবাসীদের গণ-নির্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে। যার মূল দায়িত্বে রয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট তথা আইসিই।

ট্রাম্প মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট নেতাদের কটাক্ষ করে আসছেন এবং সেখানে বসবাসকারী সোমালি বংশোদ্ভূত মানুষদের ‘আবর্জনা’ আখ্যা দিয়ে দেশ থেকে ‘ছুঁড়ে ফেলার’ কথা বলেছেন। মিনেয়োপলিসে তিন হাজার আইসিই সদস্য পাঠিয়েছেন তিনি। তারা বন্দুকসহ গোটা শহর চষে বেড়াচ্ছেন। সামরিক বাহিনীর স্টাইলে ছদ্মবেশী পোশাক ও মুখে মাস্ক পরে শহরে টহল দিচ্ছেন তারা।

গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) এমনই এক অভিযান চালাতে গিয়ে এক নারীকে তার গাড়ির ভেতর গুলি করে হত্যা করে এক আইসিই সদস্য।এবিসি নিউজের প্রতিবেদন মতে, রেনি নিকোল ম্যাকলিন গুড নামের ৩৭ বছর বয়সি ওই নারী কোনো অভিবাসী নয়। তিন সন্তানের জননী গুডের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে। পুলিশি কোনো অভিযোগে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

এরপরও ট্রাম্প প্রশাসন ওই নারীকে ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিত্রিত করে। যা বিশ্বব্যাপী ক্ষোভের সৃষ্টি করে। আমেরিকাজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা মিনেসোটা থেকে অভিবাসন পুলিশ তথা আইসিই এজেন্টদের সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পাশাপাশি মিনিয়াপোলিস কর্তৃপক্ষ ম্যাকলিন গুড হত্যার ঘটনা ‘নিরপেক্ষ ও স্বাধীন’ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিক্ষোভের মধ্যেই মিনিয়াপলিসে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে একজন অভিবাসীকে গুলি করে অভিবাসন পুলিশ। গুলিতে ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। তিনি হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন।


আইসিইর দাবি, ওই ব্যক্তি ভেনেজুয়েলার নাগরিক। একজন এজেন্ট তাকে আটকের চেষ্টা করলে দুই ব্যক্তি তাকে বেলচা ও ঝাড়ুর হাতল দিয়ে আক্রমণ করে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ওই ব্যক্তি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যক্তিকে গুলির পর বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দ্বিতীয় ব্যক্তিকে গুলি করার ঘটনাস্থলের কাছে জড়ো হন আশপাশের বাসিন্দারা। এ সময় তারা মুহুর্মুহু স্লোগান দেন। বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলেও নিরাপত্তাকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের ওপর ফ্ল্যাশ-ব্যাং গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস ছোড়ে। এতে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

বিক্ষোভের পর নিরাপত্তাকর্মীরা অভিবাসী ও বিক্ষোভকারীদের অনেককেই আটক করে। পালানোর সময় জানালা ভেঙে বেশ কয়েকজনকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে। কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিন নাগরিকদের থামিয়ে পরিচয়পত্র চাওয়ার নামে হয়রানি করা হয়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: