ফাইল ছবি
ভেনেজুয়েলার ওপর ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ এক বছরের চেয়েও 'বেশি সময়' ধরে বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল— দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কতদিন স্থায়ী হবে? জবাবে ট্রাম্প বলেন, "আমি বলব, এরচেয়েও বেশি সময় (এক বছরের বেশি)।
তবে সময় বলে দেবে আসলে কী হবে।" গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে এক ঝটিকা সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে আমেরিকান বাহিনী। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কে বন্দি অবস্থায় বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইনের সীমাবদ্ধতাকে সরাসরি অস্বীকার করেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বললেও ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল সাফ, "আমার কোনো আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই।" তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব নৈতিকতা ও বিবেকের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেবে এবং অত্যন্ত 'লাভজনক উপায়ে' ভেনেজুয়েলাকে পুনর্গঠন করবে। এই প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হবে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেল সংগ্রহ ও ব্যবহার করবে, যা তেলের বৈশ্বিক দাম কমাতে সাহায্য করবে। বিনিময়ে অর্থের জন্য হাহাকার করা ভেনেজুয়েলাকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে আটকে থাকা ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিশোধন করে বাজারজাত করবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের দাবি, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল হবে এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার হবে। রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের এমন কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে ওয়াশিংটনের প্রত্যক্ষ প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে যাচ্ছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: