নিউইয়র্কে নাহার এর অ্যাপ্রিসিয়েশন লাঞ্চ

মানবতার সেবায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে : ইমাম দেলোয়ার হোসাইন

মুনা সাংগঠনিক ডেস্ক | ১১ আগস্ট ২০২৬ ২২:৫৫

ছবি: নাহার নিউইয়র্ক নর্থ ও সাউথ জোন আয়োজিত ‘অ্যাপ্রিসিয়েশন লাঞ্চ’ অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তাগণ ছবি: নাহার নিউইয়র্ক নর্থ ও সাউথ জোন আয়োজিত ‘অ্যাপ্রিসিয়েশন লাঞ্চ’ অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তাগণ

মানুষের কল্যাণে কাজ করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনেরও অন্যতম মাধ্যম। দুর্যোগকবলিত, ক্ষুধার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে ‘আকাবার পথ’, এই পথে অবিচল থাকতে পারলে আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাতই হবে মানুষের চূড়ান্ত ঠিকানা।

গতকাল রোববার স্থানীয় সময় বিকেলে নিউইয়র্কের বাইতুল মামুর নর্থ আমেরিকান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ - নাহার নিউইয়র্ক নর্থ ও সাউথ জোনের জনশক্তিদের নিয়ে আয়োজিত ‘অ্যাপ্রিসিয়েশন লাঞ্চ’ (কৃতজ্ঞতায় মধ্যাহ্নভোজ) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা -  মুনা প্রেসিডেন্ট ইমাম দেলোয়ার হোসাইন এসব কথা বলেন।

ছবি: নাহার নিউইয়র্ক নর্থ ও সাউথ জোন আয়োজিত ‘অ্যাপ্রিসিয়েশন লাঞ্চ’ অনুষ্ঠানে উপস্থিবৃন্দের একাংশ

নাহারের প্রেসিডেন্ট ডা.আতাউল হক ওসমানীর সভাপতিত্বে এবং নাহারের ডিরেক্টর দেলোয়ার হোসাইন মজুমদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইমাম দেলোয়ার হোসাইন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নাহারের স্বপ্নোদ্রষ্টা  আবু আহমেদ নুরুজ্জামান ও মুনা’র ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আরমান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তারা হলেন, মুনা নিউইয়র্ক সাউথ জোন প্রেসিডেন্ট মাওলানা এমদাদ উল্লাহ, নিউইয়র্ক নর্থ জোন প্রেসিডেন্ট মমিনুল ইসলাম মজুমদার, নাহার সাউথ জোনের ডিরেক্টর আব্দুস সাত্তার ও নর্থ জোন ডিরেক্টর এডভোকেট আবুল হাশেম।

সূচনা পর্বে কুরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ তানভীর আহমেদ।

ইমাম দেলোয়ার হোসাইন পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বালাদের কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করে ‘আকাবা’ ও ‘মারহামাহ’-এর তাৎপর্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আকাবা’ হলো জান্নাতের পথে এগিয়ে যাওয়ার কঠিন পথ। এ পথে চলতে হলে মানবতার প্রতি দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করতে হবে। দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে, অসহায় ও অভাবগ্রস্তদের সাহায্য করতে হবে।

এ সময় তিনি ‘মারহামাহ’ বা পরস্পরের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার গুরুত্ব তুলে ধরে সাহাবায়ে কেরামের জীবন থেকে মুহাজির ও আনসারদের পারস্পরিক সহযোগিতার উদাহরণ তুলে ধরেন।

ইমাম দেলোয়ার হোসাইন তার বক্তব্যে সকলকে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক মুসলিমদের কাছে মানবতার সেবার আহ্বান পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দেন।

তিনি বলেন, ‘সবাই সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে মানবকল্যাণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ছোট ছোট উদ্যোগ একসময় একটি বিশাল মহিরুহে পরিণত হতে পারে।’

আবু আহমেদ নুরুজ্জামান তার বক্তব্যে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘হাঁটি হাঁটি পা পা করে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। আপনাদের সহযোগিতার কারণেই আজ আমরা এ পর্যায়ে পৌঁছেছি।’

তিনি আরও বলেন, নাহারের স্বপ্ন একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা রেড ক্রিসেন্টের মতো বিশ্বব্যাপী মানবতার কল্যাণে কাজ করবে।

বিশ্বের এক প্রান্তে শিশুরা খাবারের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে, অথচ আমেরিকার শিশুরা আনন্দে আপেল ছুড়ে খেলছে। এই বৈষম্য দূর করতে মানবতার সেবায় আরও কমিউনিটির প্রতিটি মানুষের কাছে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানান তিনি।

শুধু মুসলমান নয়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য নাহার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন আবু আহমেদ নুরুজ্জামান ।

আরমান চৌধুরী বলেন, ‘নাহার কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি মানবতার জন্য কাজ করে।’

মানুষকে দেখানোর জন্য নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই নাহারের কর্মীরা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করছেন। এমনটাও উল্লেখ করেন তিনি।

মুনা ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর বলেন, নাহারের কর্মীদের চরিত্র, আচরণ ও মানবিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অনেক মানুষ ইসলামের সৌন্দর্য্য সম্পর্কে জানতে পারছেন। তাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নাহারের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে সবাইকে মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরামর্শ দেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে নাহারের প্রেসিডেন্ট ডা. আতাউল হক ওসমানী বলেন, গাজা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সোমালিয়া, সুদানসহ আফ্রিকার বিভিন্ন মুসলিম প্রধান দেশে নাহারের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। ভূমিকম্প, বন্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যসহ বিভিন্ন মানবিক খাতে সহযোগিতা এবং এতিম শিশুদের শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন নাহারের এই প্রেসিডেন্ট।

তিনি জানান, অর্থের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। সুদান ও সোমালিয়ায় খাদ্যসংকটে থাকা শিশুদের জন্য আরও বড় পরিসরে সহায়তা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে নাহারের বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নাহারের পরিচালিত মানবিক কার্যক্রম, দুর্যোগে সহায়তা, খাদ্য বিতরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির চিত্র তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে নাহারের নর্থ ও সাউথ জোনের বিভিন্ন পর্যায়ের জনশক্তি ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মানবতার সেবায় নাহারের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

এইচ এম আকতার 
নিউইয়র্ক 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: