পদত্যাগ করলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:২৫

ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত
পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
 
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বলেছি আজকের দিন হতে আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি। আমি ওনাকে বলেছি, আমি পুরো সময়টাতে ঢাকা-৬ আসন ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা, পরবর্তীতে আরো যদি এলাকা থাকে—সেখানকার মাদক নির্মূল এবং আমাদের জাতীয় জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি সদয় সম্মত হয়েছেন।'
 
জমি দখল বা চাঁদা তুলতে সেখানে (গেন্ডারিয়া) যাননি উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, 'মাদক নির্মূলের জন্য গিয়েছিলাম।' ইশরাক বলেন, অভিযান নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন 'বয়ান' তার দল ক্ষমতাসীন বিএনপিকে বিব্রত করেছে।
 
তিনি বলেন, 'যদি আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকে, আমি কাউকে আঘাতপ্রাপ্ত করে থাকি এই অভিযানের মাধ্যমে, সেটার জন্য আগে আমি দুঃখপ্রকাশ করে নিচ্ছি। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল সেদিন করিনি। আমি কেবল আমার নিরাপত্তার জন্য আমার হাতে অস্ত্রটুকু যতটুকু সময় প্রয়োজন রেখেছিলাম, পরবর্তীকালে সেটি আর আমার দৃশ্যমান হয়নি।'
 
প্রসঙ্গত, মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে নেমে বিতর্কের জন্ম দেওয়া ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে গতকাল পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
 
এর আগে, আজ সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দুপুর ২টায় পদত্যাগের 'চূড়ান্ত' ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়ে ইশরাক হোসেন লেখেন, পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।'
 
উল্লেখ্য, শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক হোসেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। 
 
ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযানে গিয়ে গাড়ি নিজের গাড়ি থেকে নামার সময় ইশরাকের এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস, আরেক হাতে পিস্তল। নেমেই একদল লোককে তাড়া শুরু করেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী।
 
এ নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়। এ ঘটনার এক দিনের মাথায় ইশরাককে মন্ত্রিসভা ছাড়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।