ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতার মান বাড়াতে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে ফ্রেমওয়ার্ক অব ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস (বেইজিং এগ্রিমেন্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়েছে।
শনিবার চীনের তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত 'বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলন'-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এই বৈশ্বিক কাঠামোর ঘোষণা দেওয়া হয়। এই আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কাঠামোকে সমর্থনকারী দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টিরও বেশি রাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে এ সম্মেলনে বেইজিং এগ্রিমেন্টের পাশাপাশি চীনে বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক শ্বেতপত্র ও লুবান ওয়ার্কশপের জাতীয় মানদণ্ড প্রকাশ করা হয়। বৈশ্বিক এই মানদণ্ডে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের তরুণ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্মেলনের সমাপনী দিনে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী ওয়াং গুয়াংইয়ান।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, বেইজিং এগ্রিমেন্ট এবং এই দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক যৌথভাবে দেশের তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য বাস্তবমুখী চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। এটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
স্বাক্ষরিত এই দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার অধীনে বেশ কয়েকটি অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করবে দুই দেশ। এর মধ্যে রয়েছে চীনের পাঠ্যক্রম, পাঠদান পদ্ধতি ও প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং ফ্রেমওয়ার্ক অনুসরণে দেশের ৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক রূপ দেওয়া এবং যৌথ ২+২ ও ৩+১ মডেলের একাডেমিক প্রোগ্রাম চালু করা।
এছাড়া বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক ল্যাব ও স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি, চীনের শীর্ষ সংস্থাসমূহে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং যৌথ উদ্যোগে দেশে একটি নতুন 'কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়' প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি কারিগরি অধ্যয়নের জন্য উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি সুবিধাও বাড়ানো হবে।
চীনের গুয়াংডং ও জিয়াংসিসহ বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য প্রদেশের কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নে মূল অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।