সংগৃহীত
পারস্য উপসাগরে ইরান, ইউএস ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ পৌনে চার মাস অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকেরা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে আকাশপথে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তাঁরা।
বিমানবন্দরে নামার পর বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) কর্মকর্তা ও স্বজনেরা তাঁদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় বিমানবন্দরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বিমানবন্দরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, যুদ্ধের সময় তাঁদের জাহাজের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রবাহিত হচ্ছিল এবং আশপাশের বেশ কিছু জাহাজ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। অনেক নাবিক মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
ক্যাপ্টেন শফিকুল জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানকালে তাঁদের পাশের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যা থেকে বড় ধরণের বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় তাঁরা জাহাজ ছেড়ে যাননি।
জাহাজের তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন জানান, জিপিএস ও স্যাটেলাইট নেভিগেশন অকার্যকর হয়ে পড়ায় মাইনভরা বিপজ্জনক নৌপথে সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে জাহাজ চালাতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাণিজ্যিক পণ্য নিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশের পর যুদ্ধ শুরু হলে ভিআইপি নৌপথে আটকা পড়ে জাহাজটি। অবশেষে ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেয়ে গত ২৩ জুন হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে জাহাজটি নিরাপদ স্থানে পৌঁছে এবং নাবিকদের দেশে ফেরার পথ সুগম হয়।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: