২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ, ব্যস্ত কর্মসূচিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী

Akhlakuzzaman | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৬

ছবি : সংগৃহীত ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেওয়ার আগে ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও বিভিন্ন পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তিনি। রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য এবারের সফরের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী কার্যক্রমেও যোগ দেন তিনি।


রোহিঙ্গা ও জলবায়ু ইস্যুতে গুরুত্ব

২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দাতা ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই দিনে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলাবিষয়ক বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো বিষয় তুলে ধরার কথা রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।


জাতিসংঘ সংস্কারে আস্থা পুনর্গঠনের বার্তা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান অধিবেশনের মাধ্যমে জাতিসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, পরিবর্তিত বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সংস্কারের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা, প্রয়োজনীয় সংস্কারের সাহস এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনায় সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। তবে এ ধরনের পরিবর্তন তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব নয়; দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে রয়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন তিনি।

একই দিনে বাংলাদেশ আয়োজিত মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দক্ষ মিডওয়াইফারি সেবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার কথা রয়েছে।

এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ভাষণের জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারিত থাকলেও সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচিও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি কুয়েতের যুবরাজের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।


২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ছাড়ার কথা

সফরের শেষ দিনে ২৫ সেপ্টেম্বর জেপিমরগানের নিউইয়র্ক কার্যালয়ে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পরে কুয়েতের যুবরাজের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে নিউইয়র্ক ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় এমিরেটসের EK202 ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রবাসী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা যায়। দলীয় পতাকা ও ব্যানার নিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং হোটেলের সামনেও স্লোগান ও করতালির মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানান।