উগ্রবাদের ঠাঁই হবে না বাংলাদেশে, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১৫ জুলাই ২০২৬ ২১:৪০

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

বাংলাদেশে কোনো ধরনের চরমপন্থা ও উগ্রবাদের ঠাঁই হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধারা এমন এক বাংলাদেশ চেয়েছিলেন যেখানে চরমপন্থার কোনো স্থান থাকবে না এবং ন্যায়পরায়ণতাই হবে শেষ কথা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে আর কাউকে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে দেওয়া হবে না। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের কুইক রেন্টাল ও জ্বালানি খাতের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত সরকার নিজের পকেট ভারী করার জন্য বিদ্যুৎ খাতকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিল। তবে বর্তমান সংসদকে সত্যিই জনগণের সংসদ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, বিল উপস্থাপন নিয়ে দ্বিমত থাকলেও অত্যন্ত প্রাণবন্ত আলোচনার মাধ্যমে সরকারি ও বিরোধী দল নিজ নিজ চিন্তা উপস্থাপন করতে পেরেছে। তিনি ঘোষণা করেন, বিগত ১৭ বছরে এবং জুলাই বিপ্লবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে উভয় পক্ষই সব ধরনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাতীয় সংসদে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৩১ দফা এখন আর কেবল বিএনপির নয়, এটি এখন সমগ্র দেশের ৩১ দফা। জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।’ দেশের অর্থনীতিকে ঋণনির্ভরতা থেকে বের করে বিনিয়োগনির্ভর করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত করা হবে। কেবল জনশক্তি রপ্তানি নয়, দেশে ইকো-টুরিজম, তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্লু-ইকোনমি খাতে ১০ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিবছর ৫ কোটি করে মোট ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যে ১০ হাজার নতুন নার্সারি গড়ে তোলা হবে, যা আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করবে।

বিগত সরকারের আমলে অটো প্রমোশন ও নকলের মাধ্যমে ধ্বংস করা শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিতর্কিত বিষয়গুলো সিলেবাস থেকে সরিয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও মানসম্মত শিক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে। আগামী বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতকে ‘১০১ ভাগ অসুস্থ’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকার এ দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে অন্য দেশের হাতে তুলে দিয়েছিল। রোগ প্রতিরোধে জোর দিতে দেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পাশাপাশি গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঁচটি বিভাগে ২০০ শয্যার পাঁচটি শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। স্বাস্থ্য খাতের বাজেটও জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচারের তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি কঠোরভাবে দমনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষ বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তর করতে ইতিমধ্যে ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তিনি ৩০০ সংসদ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। অধিবেশন চলাকালীন নিরলস কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অগ্রিম ভাতা দেওয়ার জন্য তিনি স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান। পরিশেষে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবে, কিন্তু শত্রুতা নয়। বাংলাদেশে আর যাতে কখনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে না পারে এবং দেশ যাতে কখনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত না হয়—এই প্রশ্নে আমাদের সবার মধ্যে জাতীয় ঐক্য রয়েছে।’



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: