ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেছে জামায়াত

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১ জুলাই ২০২৬ ২০:৫১

সংগৃহীত সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেছে এবং উপযুক্ত সময়ে তা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে বাজেট পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির বাজেট, চলমান সংসদীয় বৈষম্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই ছায়া মন্ত্রিসভার অভ্যন্তরীণ সাংবিধানিক মর্যাদা না থাকলেও বিশ্বজুড়ে এর গণতান্ত্রিক স্বীকৃতি রয়েছে। বর্তমান সংসদকে একটি বিনোদনকেন্দ্র বা গান-বাজনার আসর না বানিয়ে জনগণের প্রকৃত সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনার দায়িত্বশীল কেন্দ্রে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি। জামায়াত সেই লক্ষ্যেই সংসদে ও রাজপথে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংসদীয় রাজনীতি ও জাতীয় সংস্কার প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতা অভিযোগ করেন, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিলেও সরকারি দল বিএনপি সেই জনরায়কে অগ্রাহ্য ও অপমান করেছে, যা জাতীয় জীবনে নতুন সংকট তৈরি করেছে। সংবিধানে না থাকার অজুহাতে বিএনপির সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সংবিধানে ছিল না, অথচ তাদের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নিয়েই বিএনপি আজ ক্ষমতায় এসেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হলেও বর্তমান সংসদে বিরোধী দল সময় বরাদ্দের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার অনেক জনবান্ধব অধ্যাদেশ বাতিল করছে দাবি করে তিনি মনে করিয়ে দেন, জনগণ সংস্কারের ম্যান্ডেট দিয়েছে, সংশোধনের নয়।

ঘোষিত জাতীয় বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, তাদের পূর্বঘোষিত ছায়া বাজেটের ধারণার আলোকেই মূল বাজেট প্রণীত হয়েছে। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলসহ বিরোধী দলের কিছু আপত্তি সরকার আমলে নেওয়ায় তিনি ধন্যবাদ জানান। তবে অর্থবছর জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাবটি গৃহীত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট দেওয়া অপরাধ নয়, তবে দুর্নীতি রোধ এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতি বন্ধ না হলে দেশ থেকে আবারও অর্থ পাচার হবে।

সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা এবং সমসাময়িক বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতের এমপিরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও সরকারি ফ্ল্যাট বর্জন করেননি। কারণ এই ফ্ল্যাটগুলো স্থায়ীভাবে দেওয়া হয় না, বরং কেবল মেয়াদে বসবাসের জন্য সাময়িকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, জামায়াত অতীতেও জাতীয় স্বার্থে ১৯৯১ সালে বিএনপিকে সরকার গঠনে নিঃস্বার্থ সহযোগিতা করেছিল। এ ছাড়া, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও জুলাই ফাউন্ডেশনের বর্তমান স্থবিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর দ্রুত কার্যকারিতা দাবি করেন তিনি।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: