রোহিঙ্গাদের জন্য অতিরিক্ত ভূমি চেয়ে জাতিসংঘের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করল বাংলাদেশ

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২০ জুন ২০২৬ ১৮:২৯

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য অতিরিক্ত জমি বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে এ প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের দাবিতে জাতিসংঘে আবারও জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, ফলে এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে। মানবিক বিবেচনায় প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে।

রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জাতীয় সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। তাই সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান এখন সময়ের দাবি।

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক অংশীজনদের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা নিজেরাও নিজ দেশে ফিরতে চায় এবং প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগে বাধ্য করার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সংকটের মূল কারণ দূর করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগে থেকেই বাংলাদেশে অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিল। পরে একই বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে কয়েক মাসের মধ্যে আরও প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে দেশে মোট প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: