সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরেই নানা অপরাধে লিপ্ত ছিল।
শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, রানার অতীত রেকর্ড এবং স্বভাব-চরিত্র অত্যন্ত কলঙ্কিত। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে দাখিল করা হবে। গত মঙ্গলবার পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধারের পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রানা নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হলে আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নাটোরের মহেশচন্দ্রপুরের বাসিন্দা রানা এলাকায় একজন পেশাদার চোর হিসেবে পরিচিত ছিল এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের আশ্রয়ে থাকায় বারবার পার পেয়ে যেত। তার পারিবারিক জীবনও চরম অশান্ত ও কলঙ্কিত; আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে প্রথম সংসার ভাঙার পর দ্বিতীয় বিয়ে করলেও তার স্বভাব বদলায়নি। অনলাইন জুয়া, মাদকাসক্তি এবং ঋণের দায়ে চার বছর আগে বৃদ্ধ বাবা-মা ও পরিবারকে ফেলে সে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। রানার মা এবং ছোট বোন জলি বেগম তার সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়ে এই জঘন্য অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকা ছেড়ে ঢাকায় এসে মিরপুরের পল্লবীতে রিকশা মেরামতের কাজ নিলেও মাদকাসক্তির কারণে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিতাড়িত হয় সে। সবশেষ জনৈক মাসুদের বাসায় সাবলেট হিসেবে ওঠার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় সে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: