ছবি: গ্রাফিক্স
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন বিজয়নগরের মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন। তাকে অভিনন্দন জানিয়ে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত) নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।
সোমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত ৩৬ জনের তালিকায় তার নাম প্রকাশিত হয়। তালিকায় নাদিয়ার নাম রয়েছে ৩২ নাম্বারে।
নাদিয়া পাঠান পাপন উপজেলার চান্দুরা গ্রামের মরহুম আনোয়ার হোসেন ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও বিজয়নগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে।
নাদিয়া পাঠান পাপন বিজয়নগর উপজেলার দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ঢাকা বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০০ সাল থেকেই তিনি চান্দুরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রীও। বর্তমান বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত আওয়ামী সরকারের সময় তিনি প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। বারবার পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা ফেসবুকে পোস্টে লিখেন, ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নাই। মা সৈয়দা নাখলু আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষক লীগের সাবেক ‘সহ-সভাপতি’, বিজয়নগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত দলীয় ভাইস-চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত সদস্য। কিন্তু উনার মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন বর্তমানে বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মনোনীত হয়েছে! বিজয়নগর উপজেলার মানুষ এতটায় ভাগ্যবান যে উপজেলা হিসেবে দুইজন নির্বাচিত ও একজন মনোনীতসহ মোট তিনজন মাননীয় সংসদ সদস্য পেয়েছি! যাই কিছুই হউক বিজয়নগরের সন্তান হওয়ার কারণে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে মনোনীত সংরক্ষিত মহিলা মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্যকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।’
তাছাড়া বিজয়নগরের সন্তান হিসেবে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে অনেকেই নাদিয়াকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার প্রসঙ্গে নাদিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাসসহ অসংখ্য মামলা হামলার স্বীকারের সময় তো কেউ এ সব প্রশ্ন করেনি? প্রধানমন্ত্রী যাচাই-বাছাই করেই মনোনয়ন দিয়েছেন। এখন এসব নিয়ে চিন্তা করার সময় নেই। এখন তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করায় প্রধান কাজ।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: