ওয়াশিংটন-কারাকাস সম্পর্কের চরম অবনতি

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৩০ আগস্ট ২০২৫ ২০:৫৭

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ইউরোপ থেকে আফ্রিকা, এশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া—বিশ্বের অধিকাংশ দেশই আমেরিকার আধিপত্য মেনে নিলেও ব্যতিক্রম ভেনেজুয়েলা। যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লগিরি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। আর সেই কারণেই কয়েক দশক ধরে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের সম্পর্ক চরম উত্তেজনাপূর্ণ।

২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। আগের শাসকদের মতোই তিনি আমেরিকার আধিপত্যবাদের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। এরপর থেকেই মাদুরো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে একের পর এক পদক্ষেপ নিতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে। ওই আদেশে লাতিন আমেরিকার মাদকচোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অনুমোদন দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, মাদুরো সরকার কার্টেল দে লস সেলোস নামের একটি কোকেন চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে, যারা চোরাই পথে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহ করছে।

এ কারণে ক্যারিবিয় সাগরে একটি নৌ টাস্কফোর্স মোতায়নের ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। বহরে রয়েছে একটি সাবমেরিন ও সাতটি যুদ্ধজাহাজ, যেগুলো পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছে প্রায় ৪৫০০ সেনা।

এ পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাদুরো। তিনি স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার জলসীমায় যুদ্ধজাহাজ প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। বৃহস্পতিবার এক সামরিক অনুষ্ঠানে মাদুরো বলেন, “ চাপ আমাদের সরকারকে দমাতে পারবে না, বরং আরও শক্তিশালী করবে।”

শুধু তাই নয়, মাদকের অভিযোগে মাদুরোকে ধরার জন্য ট্রাম্প তার মাথার দাম দ্বিগুণ করে ৫০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিউসদক কেবেলোকে ধরার জন্যও ২৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। তবে মাদুরো অভিযোগগুলো নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, এসব ভেনেজুয়েলার সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নয়।

প্রতিক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলাও উপকূলীয় এলাকায় নিজেদের সামরিক শক্তি জোরদার করেছে। নৌযান, ড্রোন এবং হাজারো সেনা মোতায়ন করে মাদুরো ঘোষণা দিয়েছেন, “ভূখণ্ড রক্ষায় আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার উপকূলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়নের মূল উদ্দেশ্য হলো মাদুরো সরকারের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। যুক্তরাষ্ট্র এভাবেই বার্তা দিচ্ছে যে, প্রয়োজনে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। অনেকের ধারণা, এটি মাদুরোকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করার একটি কৌশল হতে পারে।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: