ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ফের আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির গোরখা জেলার বুধি গণ্ডকী নদীতে রোববার ভোরে হঠাৎ বন্যা দেখা দিলে চুমনুব্রি ও ধারচে গ্রামীণ পৌরসভা এলাকায় অন্তত ৩৫ থেকে ৪০টি বাড়ি ভেসে গেছে। এতে ধ্বংস হয়েছে একাধিক ঝুলন্ত সেতু, চলাচলযোগ্য লোহার সেতু এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ অবকাঠামো। এ ঘটনায় কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চুমনুব্রি গ্রামীণ পৌরসভার প্রশাসনিক প্রধান নারায়ণ প্রসাদ সাপকোটার বরাতে জানা গেছে, রোববার সকালে বুধি গণ্ডকী নদীতে আকস্মিক বন্যায় চুমনুব্রি পৌরসভার জগৎ বাগার, সাল্লেরি ও ঘাট্টিখোলা এলাকার আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০টি বাড়ি ভেসে গেছে। বন্যার পানিতে আরও কয়েকটি বসতি প্লাবিত হয়েছে। আশপাশের বেশ কিছু বাড়িও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
বন্যার পানির তোড়ে ন্যাকচেত ও সিরদিবাস এবং মাছাখোলা ও কেরাউজাকে সংযুক্তকারী দুটি ঝুলন্ত পদচারী সেতু ভেসে গেছে। আরুঘাট গ্রামীণ পৌরসভার ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে সোটিতে অবস্থিত যানবাহন চলাচলের উপযোগী একটি লোহার সেতুও ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া গোরখা ও ধাদিং জেলা সংযোগকারী আরুঘাটের সেতুটিও ভেসে গেছে। ন্যাকচেত ও ফিলিম বাজারকে সংযুক্তকারী আরেকটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং।
চুমচেত এলাকায় উঙ্গিলুং নদীর তীরে একটি অস্থায়ী ছাউনিতে অবস্থান করা পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন। এ ছাড়া সিরদিবাস থেকে চুমলিংয়ের দিকে যাত্রা করা চার থেকে পাঁচজন পশুপালকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা জগৎ এলাকা থেকে নেপালের সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারে করে ছয়জনকে উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়নি।
সাল্লেরির চুমনুব্রি-৩ এলাকায় নির্মাণাধীন ৩৪১ মেগাওয়াট ক্ষমতার বুধি গণ্ডকী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণশিবির ও কিছু সরঞ্জাম বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। মাছাখোলার কয়েকটি বাড়িও পানিতে ডুবে গেছে। অন্যদিকে, ধারচে-৩-এর সাল্লেরি এলাকায় প্রায় ২০ থেকে ২২টি বাড়ি বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, চুমচেতের কাছে ভূমিধসের কারণে নদীর একটি উপনদীর পানি আটকে গিয়ে পরে হঠাৎ প্রবল বেগে নেমে আসার ফলে বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে বন্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই এলাকার স্যাটেলাইট চিত্রে বড় ধরনের ভূমিধসের চিহ্ন দেখা গেছে।
এদিকে, নদীর পানির উচ্চতা ওঠানামা করায় ত্রিশূলী নদীসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। বেনিঘাট পর্যন্ত নিম্নাঞ্চলে অতি উচ্চ বন্যাঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। মুগলিং, চিতওয়ান ও নওয়ালপরাসি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।