ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে-তে চিফ ক্লিনিশিয়ান হিসেবে নিযুক্ত হলেন মুসলিম নারী অধ্যাপক

Maisha Mumtaz | ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৬

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ক্যান্সার গবেষণায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দাতব্য সংস্থা ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের প্রধান চিকিৎসক বা চিফ ক্লিনিশিয়ান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রখ্যাত গবেষক অধ্যাপক মরিয়ম জামাল হানজানি। এই নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি সংস্থাটির ক্লিনিক্যাল গবেষণার রূপরেখা তৈরি এবং ক্যান্সার চিকিৎসার মান উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবেন।

ক্যান্সার চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সংস্থাটি দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য পূরণে তার মতো একজন অভিজ্ঞ গবেষকের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার খবরটি চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মহলেও বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

অধ্যাপক মরিয়ম জামাল হানজানি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে বা ইউসিএলে ক্যান্সার জিনোমিকস এবং মেটাস্ট্যাসিস বিষয়ের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি একজন অত্যন্ত সুপরিচিত এবং স্বীকৃত গবেষক হিসেবে সমাদৃত। মানবদেহে ক্যান্সার কীভাবে বিবর্তিত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তা নিয়ে তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি প্রচলিত চিকিৎসার বিরুদ্ধে ক্যান্সার কোষগুলো কীভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে সেই জটিল প্রক্রিয়া নিয়েও তার ব্যাপক গবেষণা রয়েছে। তার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবার ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের ভবিষ্যত গবেষণার কাজে সরাসরি ব্যবহৃত হবে।

নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অধ্যাপক মরিয়ম জামাল হানজানি অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন যে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলোকে রোগীদের বাস্তব জীবনের কল্যাণে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের একটি অসাধারণ ও প্রমাণিত ইতিহাস রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যের অংশ হতে পারা এবং এই যাত্রায় ভূমিকা রাখার সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি বলে মনে করছেন। রোগীদের জন্য নতুন এবং আরও কার্যকর চিকিৎসার উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বর্তমান বিশ্বে ক্যান্সার চিকিৎসায় মেটাস্ট্যাসিস বা ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়া রোধ করা চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। অধ্যাপক মরিয়মের জিনোমিক্স বিষয়ক দীর্ঘ গবেষণা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন করতে পারে। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে বরাবরই গবেষণাগারের প্রাথমিক সাফল্যগুলোকে সরাসরি রোগীদের জন্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে কাজ করে থাকে। প্রধান চিকিৎসক হিসেবে তিনি বিজ্ঞানীদের আধুনিক গবেষণা এবং রোগীদের সরাসরি চিকিৎসার মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করবেন। এর ফলে আগামী দিনে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে মানবজাতির লড়াই আরও বেশি সুসংহত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।