ফাইল ছবি
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় ভারত চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে বলে মোদি সরকার বিস্তর প্রচার করেছিল। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বছরই একথা জানিয়েছিলেন। ফের গত বছরের শেষে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছিল, জাপানকে টপকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তকমা পেয়েছে ভারত। সে সময়ে ভারতের অর্থনীতির মোট মূল্য ছিল ৪.১৮ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু এবার সংসদে মোদি সরকার যে তথ্য প্রকাশ করেছে তার সঙ্গে এতদিনের ঘোষণার কোনও মিল নেই।
সম্প্রতি ভারতের অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরি জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের অবস্থান ছিল বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায়। আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার তথা আইএমএফের সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। এর পরেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারের হাতিয়ার পেয়ে গিয়েছে। বিরোধীরা অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার শুধুই নিজেদের এজেন্ডা পূরণের চেষ্টায় ব্যস্ত। অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেয়া হয় না।
রাজ্যসভায় একটি প্রশ্নের জবাবে লিখিতভাবে পঙ্কজ জানিয়েছেন, আইএমএফ ক্রমতালিকা তৈরি হয় নমিনাল জিডিপির ভিত্তিতে। ডলারের বর্তমান দর অনুযায়ী ক্রমতালিকা নির্ধারিত হয়। অর্থনীতির র্যাঙ্কিং বদলের নেপথ্যেও বেশ কয়েকটি কারণ থাকে। যেমন ডলারের নিরিখে মুদ্রার দামে ওঠানামা, অন্য দেশের আর্থিক পরিস্থিতি, নিজের দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি- এসবের উপর ভিত্তি করে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় বদল হতে থাকে। গত অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি ছিল ৩.৯২ লক্ষ কোটি ডলার। আইএমএফ ক্রমতালিকায় ভারত ছিল ষষ্ঠ স্থানে।
প্রাথমিকভাবে মোদি সরকার টার্গেট করেছিল, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হিসাবে তুলে ধরা। ব্যাঙ্কিং বিনিয়োগ সংস্থা জেফ্রিসের অর্থনীতি মূল্যায়নের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে পাঁচ ট্রিলিয়ন অর্থাৎ পাঁচ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ফেলবে ভারত। মোটামুটিভাবে ২০২৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে ভারতকে তৃতীয় করার লক্ষ্য রাখছে মোদি সরকার। সেটা করতে পারলে ২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির জন্য বড়সড় রাজনৈতিক সুবিধা হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রথম দফায় ক্ষমতায় আসার পর মোদি সরকারের লক্ষ্য ছিল ৫ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতি হয়ে ওঠা। এখনও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তবে ভারত পৌঁছেছে ৩.৯২ লক্ষ কোটিতে। আর্থিক বৃদ্ধির এই হার ধরে রাখতে পারলে বিরোধীদের অভিযোগের পালটা দেওয়ার হাতিয়ার খুঁজে পাবে সরকার।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: