কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর পেরুর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হলেন কেইকো ফুজিমোরি

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৫ জুন ২০২৬ ১৮:৪৯

ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত

লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কেইকো ফুজিমোরি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছেন। ভোটগ্রহণের সতেরো দিন পর বুথ ফেরত গণনার প্রায় নিরঙ্কুশ অংশ অর্থাৎ ৯৯.৮ ভাগ গণনা শেষে দেখা গেছে ডানপন্থী রাজনীতিবিদ ফুজিমোরি ৫০.১ ভাগ ভোট পেয়ে এক অপরাজিত ব্যবধানে এগিয়ে গেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থী জোটের রবের্তো সানচেজ পেয়েছেন ৪৯.৮ ভাগ ভোট। গণনা বাকি থাকা মাত্র ৪০,২১৩টি ভোটের চেয়ে ফুজিমোরির ভোটের ব্যবধান (৪৩,৩৮৬) বেশি হওয়ায় তার এই জয় নিশ্চিত হয়।

এ খবর দিয়েছে এল পাইস। পেরুর ইতিহাসে ফুজিমোরিই প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। টানা তিনবার পরাজয়ের পর এটি ছিল পেরুর সাবেক একনায়ক আলবের্তো ফুজিমোরির ৫১ বছর বয়সী কন্যা কেইকো ফুজিমোরির চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট পদের লড়াই। পেরুর সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর মতো এবারও জয়ের ব্যবধান ছিল এক ভাগের চেয়েও কম। এই জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রবাসী পেরুবাসীদের ভোট, বিশেষ করে আমেরিকার ভোটগুলো ফুজিমোরির পক্ষে গেছে। তবে বামপন্থী নেতা রবের্তো সানচেজ শুরু থেকেই নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন এবং তিনি এই ফলের বৈধতা স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সানচেজের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নতুন করে আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছে, যা পেরুর ভঙ্গুর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।Politics

কেইকো ফুজিমোরি ‘ফুজিমোরির প্রত্যাবর্তন, শৃঙ্খলার প্রত্যাবর্তন’ স্লোগান নিয়ে মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তিনি ছোট ব্যবসায়ী ও পরিবহন চালকদের ওপর চাঁদাবাজি এবং ক্রমবর্ধমান হত্যাকাণ্ড রুখতে রাজপথে সেনাবাহিনী মোতায়েন, অপরাধী অভিবাসীদের তাৎক্ষণিক বহিষ্কার এবং কয়েদিদের নিজেদের খাবারের জন্য বাধ্যতামূলক শ্রম দেয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রচারণা চলাকালীন তিনি নব্বইয়ের দশকে তার বাবার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে বর্তমান অপরাধ দমনের মডেল হিসেবে তুলে ধরেন। তবে তার বাবার এই রাজনৈতিক পদক্ষেপ পেরুর সমাজকে গভীরভাবে বিভক্ত করে রেখেছে। আলবের্তো ফুজিমোরির শাসনকাল একদিকে যেমন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাস দমনের জন্য প্রশংসিত, অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি এবং আদিবাসী নারীদের জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণের মতো নৃশংস ঘটনার কারণে সমালোচিত। এই জয়ের ফলে বিগত এক দশকে পেরু নবম বারের মতো নতুন রাষ্ট্রপ্রধান পেতে যাচ্ছে।

পার্লামেন্টে ফুজিমোরির দল পপুলার ফোর্স একক বৃহত্তম শক্তি হলেও নতুন নতুন সংস্কার প্রস্তাব পাসের জন্য তাকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে। দরিদ্র গ্রামীণ অঞ্চল, যেখানে সিংহভাগ মানুষ তার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাদের আস্থা অর্জন করা এবং বামপন্থী বিরোধী দল ও তীব্র ফুজিমোরি-বিরোধী সামাজিক আন্দোলনগুলোর ক্ষোভ প্রশমন করে দেশ পরিচালনা করাই হবে নতুন নারী প্রেসিডেন্টের প্রধান পরীক্ষা।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: