সংগৃহীত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার প্রধান আয়োজক ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। সোমবার (১৫ জুন) মধ্যরাতে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই চুক্তি সইয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর দুই পক্ষ এই সমঝোতায় পৌঁছাল, যাকে বৈশ্বিক শান্তির ক্ষেত্রে একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্বনেতারা।
চুক্তির মূল রূপরেখা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারস্পরিক সামরিক সংঘাতের অবসান, ইরানের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার একটি কার্যকর কাঠামোতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণাও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের একক মধ্যস্থতায় প্রথমে যুদ্ধবিরতি এবং পরে ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়।
জাতীয় পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, ৩ মাস ১৬ দিনের নিরলস প্রচেষ্টার পর আজ বিশ্ব এই ঐতিহাসিক মাইলফলক প্রত্যক্ষ করছে। এই শান্তি প্রক্রিয়ায় আন্তরিক সহযোগিতার জন্য তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন, যার ফলে রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: