মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত, তেলের ওপর রাজস্ব বাড়াচ্ছে রাশিয়া

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:২৭

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ইরানের ওপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে গোটা মধ্যপ্রাচ্য।

সংঘাতের কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

প্রাণঘাতী যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট তেল ও গ্যাস সংকটের কারণে রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত একক বৃহত্তম কর থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব দ্বিগুণ হতে যাচ্ছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর তেহরান কার্যতভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়-যা বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি প্রবাহের একটি পথ। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারের অনেক উপরে উঠে যায়।

প্রাথমিক উৎপাদন তথ্য এবং তেলের দামের ওপর ভিত্তি করে রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, তেল উত্তোলনের ওপর রাশিয়ার ‌‘খনিজ নিষ্কাশন কর’ (Mineral Extraction Tax) এপ্রিল মাসে বেড়ে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন রুবলে (৯ বিলিয়ন ডলার) দাঁড়াবে, যা মার্চ মাসে ছিল মাত্র ৩২৭ বিলিয়ন রুবল।

এই হিসাবটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়ার জন্য ইরান যুদ্ধ থেকে পাওয়া একটি বিশাল আর্থিক লাভের প্রথম সুনির্দিষ্ট প্রমাণ। তেল ব্যবসায়ীদের মতে, এই যুদ্ধ সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য-৪০তম দিনে এসে গত বুধবার দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান। তবে যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকলেও এবং শান্তি চুক্তি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক মাস থেকে লেগে যাতে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে, সমুদ্রতলে পেতে রাখা সম্ভাব্য মাইন এড়িয়ে জাহাজ চলাচলের সুবিধার্থে হরমুজ প্রণালীতে নতুন ও বিকল্প রুট ঘোষণা করেছে ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌ শাখা।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: