ফাইল ছবি
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও “জায়নিস্ট” সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে বৃহৎ পরিসরের সম্মিলিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, রোববার বিকেলে অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪-এর ৯৭তম ধাপ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল কুয়েতের মোহাম্মদ আল-আহমদ নৌঘাঁটির কাছাকাছি একটি স্থানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডার ও কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত একটি গোপন ঘাঁটি।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহার করে নিখুঁত হামলার মাধ্যমে স্থানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্সের উপস্থিতি শত্রুপক্ষের উল্লেখযোগ্য হতাহতের ইঙ্গিত দেয়।
হামলাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) শনিবার একটি যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড সেন্টার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে চালানো হামলার পরপরই ঘটে, যেখানে এখন পর্যন্ত ২৫ জন নিহত বা আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরের চ্যানেলে একটি ইসরাইলি বাণিজ্যিক জাহাজে নৌবাহিনীর কাদির ক্রুজ মিসাইল আঘাত হানে। আইআরজিসি জানিয়েছে, “জাহাজটিতে বর্তমানে আগুন জ্বলছে।”
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, শনিবার থেকে তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে কয়েকটি জাহাজের চলাচল বাধাগ্রস্ত করছে।
আইআরজিসি জানায়, ওই জাহাজগুলোর কাছে চলাচলের অনুমতি ছিল না, তাই তাদের নৌপথের পূর্ব ও পশ্চিম নোঙর এলাকায় যেতে নির্দেশ দেয়া হয়।
হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে হলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে থাকা তেলবাহী জাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিক মেরিন রেডিওর চ্যানেল ১৬-এর মাধ্যমে আইআরজিসি নৌবাহিনীর কোনো একটি স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে বলে জানানো হয়।
এছাড়া, নাবিকদের “ভুয়া খবর”-এর প্রতি মনোযোগ না দিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে না ফেলতে সতর্ক করা হয়।
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে “উস্কানিমূলক যুদ্ধ” শুরু করার পর কয়েক দিনের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।
অভিযানের অংশ হিসেবে, আইআরজিসির এয়ারোস্পেস বাহিনী ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি শিল্পাঞ্চল লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যা বেয়ারশেবা শহরে অবস্থিত। বিবৃতিতে বলা হয়, এটি ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে “নৃশংস জায়নিস্ট শাসনের অত্যাচার”-এর জবাবে করা হয়েছে।
রোববার সকালে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার জবাবে আইআরজিসি নৌ ও এয়ারোস্পেস বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তবে আইআরজিসি জোর দিয়ে বলেছে, এখন পর্যন্ত যা ঘটেছে তা তাদের প্রতিক্রিয়ার কেবল একটি অংশ। বেসামরিক স্থাপনায় হামলা পুনরাবৃত্তি হলে পরবর্তী ধাপ আরও তীব্র ও বিস্তৃত হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও অঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত, অধিকৃত অঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা এবং পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সম্পদের বিরুদ্ধে উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করে মোট ৯৭ দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: