সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টদের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে অস্ট্রেলিয়া

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৩১ মার্চ ২০২৬ ২০:০৪

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় সরকারের অনলাইন নিরাপত্তা নজরদারি সংস্থা পাঁচটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আইনটি কার্যকর হওয়ার প্রায় চার মাস পরও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে ব্যর্থ হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক এবং ইউটিউব।

সমীক্ষা সূত্রে জানা যায়, গত জানুয়ারির শেষ দিকে ৮৯৮ জন অভিভাবকের উপর পরিচালিত ই-সেফটি কমিশনের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে যেখানে অর্ধেক শিশুর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ছিল এখন তা কমে প্রায় এক-তৃতীয়াংশে দাঁড়িয়েছে। সেই সব ১৬ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট এবং টিকটকে সক্রিয় থাকতো। এবং ইউটিউবে এখনও প্রায় ৫০ শতাংশের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। কিছু কোম্পানি, অভিভাবক এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য স্পষ্ট ও কার্যকর ব্যবস্থা চালু করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানিগুলোর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ই-সেফটি কমিশন। ই-সেফটি কমিশনার কর্তৃক প্রকাশিত নিষেধাজ্ঞার একটি হালনাগাদ তথ্যে এমন অনেক ত্রুটিপূর্ণ কার্যকলাপ চিহ্নিত করা হয়েছে। যা শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশ করতে উৎসাহিত করেছে।

মঙ্গলবার প্রতিবেদনে বিস্তারিত ভাবে সব উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের বারবার বয়স যাচাইয়ের চেষ্টা করার সুযোগ দিয়েছে যতক্ষণ না তারা সফল হয়, এবং প্ল্যাটফর্‌ম থেকে বের করে দেওয়ার পর কিশোর-কিশোরী ও শিশুদের নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে বিরত রাখতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

উল্লেখ্য গত ১০ই ডিসেম্বর ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা দেয়। নিষেধাজ্ঞার প্রথম দুই দিনেই ৪৭ লক্ষেরও বেশি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে। ই-সেফটি কমিশনারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরুতেই বয়সসীমার কারণে প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে আরও ৩ লক্ষ ১০ হাজার অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে।

ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বলেছেন, কমিশন একটি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দিকে এগোচ্ছে।

এই প্ল্যাটফর্‌মগুলো যাতে আইন মেনে চলতে পারে এবং আমরা অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আমাদের নিরাপত্তা আইন মেনে চলার প্রত্যাশা করি। তারা চাইলে আইন মেনে চলতে পারে নতুবা ক্রমবর্ধমান পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। যার মধ্যে বিশ্বজুড়ে সরকার ও ভোক্তাদের কাছে সুনামের ব্যাপক অবক্ষয়ও অন্তর্ভুক্ত। আইন অনুযায়ী প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তাদের গৃহীত পদক্ষেপের তথ্য ই-সেফটিকে প্রদান করতে হবে।

অস্ট্রেলিয়া ফেডারেল সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী আনিকা ওয়েলস জানিয়েছেন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক এবং ইউটিউবের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা সম্ভাব্যভাবে অমান্য করার বিষয়ে তদন্ত চলছে। মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যারা পদ্ধতিগতভাবে তাদের আইনি বাধ্যবাধকতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই সব কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে অস্ট্রেলিয়া অনলাইন নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এটি একটি বিশ্ব-নেতৃত্বস্থানীয় আইন যা ই-সেফটি কমিশনারকে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল কোর্টে যাওয়ার নির্দেশ দেয় এবং তা করার জন্য আমাদের প্রমাণের ভিত্তি তৈরি করতে হবে। আমরা এই সংখ্যাগুলোর পতনের জন্য আমরা তদন্ত থেকে বলপ্রয়োগের দিকে এগোচ্ছি। কারণ বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে আরও ভালো করতে হবে। অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাবসা চালিয়ে যেতে হলে সংস্থাগুলোকে অস্ট্রেলীয় আইন মেনে চলতে হবে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: