যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরানকে ছাড়তে নারাজ চীন

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৯ মার্চ ২০২৬ ০০:৪১

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত রোববার মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি মূলনীতি ঘোষণা করেছেন। এই যুদ্ধকে তিনি ‘একটি অনভিপ্রেত সংঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। বার্ষিক ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বেইজিং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাত নিরসনের পক্ষে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে তারা তেহরানকেও একা ছেড়ে দিচ্ছে না।

ওয়াং ই জানান, গাজার মানবিক সংকট মোকাবিলায় চীন একটি ‘দায়িত্বশীল পরাশক্তি’ হিসেবে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। বেইজিং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটে জাতিসংঘ সমর্থিত ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ নীতি সমর্থন করে। ইরান চীনের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ হলেও বেইজিং বর্তমানে একটি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করছে। হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ চীনের ওপরও প্রভাব ফেলছে। তবে বিশেষ দূত পাঠানোর মাধ্যমে চীন ইরানকে এই বার্তাও দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে তারা তেহরানকে একা ছেড়ে দিচ্ছে না।

ওয়াং ই প্রস্তাবিত পাঁচটি মৌলিক নীতি হলো:
১. জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা।
২. সামরিক শক্তির অপব্যবহার না করা।
৩. অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।
৪. রাজনৈতিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি।
৫. পরাশক্তিগুলোর গঠনমূলক ভূমিকা।

যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান প্রসঙ্গ
চলতি মাসের শেষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। ওয়াং ই সতর্ক করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ বন্ধ হলে ভুল বোঝাবুঝি বাড়বে, যা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর হবে। অন্যদিকে জাপানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এখন টোকিও’র সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য
গত বছর চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার। পশ্চিমা দেশগুলোর ‘ডিকাপলিং’ বা বাণিজ্য বিচ্ছিন্নকরণ নীতির সমালোচনা করে ওয়াং ই বলেন, চীন শুধু বিশ্বের কারখানাই নয়, বরং একটি বড় বৈশ্বিক বাজার। এছাড়া রাশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: