মাদুরোকে অপহরণের ঘটনায় নিন্দা জানালেন শি জিনপিং

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭:৫৪

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

সোমবার আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি বিশ্বের বর্তমান ‘অস্থিরতা’ নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, একতরফা আধিপত্যবাদে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শি জিনপিং বলেন, “বর্তমানে বিশ্ব যে ধরনের পরিবর্তন এবং অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তা এক শতাব্দীতেও দেখা যায়নি। একতরফা আধিপত্যবাদ আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কোনও দেশের জনগণ যে উন্নয়নের পথ বেছে নিয়েছে, সকল রাষ্ট্রের উচিত সেটিকে সম্মান করা। আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সনদ মেনে চলা উচিত সকলের। বিশেষত বৃহৎ শক্তিগুলোর উচিত এ ক্ষেত্রে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া।”

ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার হামলা এবং প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণ নিয়ে প্রথম থেকেই সরব চীন। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাধিক বিবৃতি জারি করেছে। সোমবারও অবিলম্বে মাদুরো এবং তার স্ত্রীর মুক্তি দাবি করেছে বেইজিং। তবে শি জিনপিং এত দিন চুপ থাকলে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করলেন।

এদিকে, ভেনেজুয়েয়েলায় আমেরিকার হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার খনিজ তেল নিয়ে চীনের অবস্থান আগামী দিনে কী হবে, তা-ও জানানো হয়েছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়াং বলেছেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। মাদুরো ও তার স্ত্রীর অপহরণ নিয়ে চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।”

মাদুরোর অপহরণের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আপাতত ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। দেশটির এই অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে চীন যোগাযোগ রেখেছে। কারাকাসের সঙ্গে বেইজিংয়ের ইতিবাচক কথোপকথন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন লিন।

ভেনেজুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম তেলভান্ডার। আর চীন তাদের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। মাদুরোর অপহরণের পর আমেরিকা দাবি করেছে, সেখানকার তেলভান্ডারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে তারা। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলভান্ডারে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ যে বাড়বে, তা সহজেই অনুমেয়। তার পরেও কি চীন সেখান থেকেই তেল আমদানি চালিয়ে যাবে? সোমবার এই প্রশ্ন করা হয়েছিল দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রকে।

জবাবে লিন সরাসরি তেলের কথা বলেননি। তিনি বলেছেন, ‘‘ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতাকে সম্মান করে চীন। দু’টি সার্বভৌম দেশের মধ্যে যে সহযোগিতার সম্পর্ক থাকে, আমাদের মধ্যেও তা রয়েছে। এই সম্পর্ক আন্তর্জাতিক আইন এবং দুই দেশের অভ্যন্তরীণ আইন দ্বারা সুরক্ষিত। আমাদের বিশ্বাস, ভেনেজুয়েলা সরকার তাদের সংবিধান এবং আইন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো সামাল দেবে।’’



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: