ট্রাম্পের নতুন শুল্ক: বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার হুমকি

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২ এপ্রিল ২০২৫ ২১:৩৮

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (২ এপ্রিল) নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। তবে তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বকে এমন এক আক্রমণের সম্ভাবনা সম্পর্কে অনুমান করতে বাধ্য করেছেন যা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে।

ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ যখন তীব্রতর হচ্ছে, তখন সকলের দৃষ্টি বুধবারের দিকে। ট্রাম্প এই বুধবারকে ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আজ তিনি এমন কিছু শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছেন যা যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশী পণ্য থেকে মুক্ত করতে তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে।

স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সাথে ট্রাম্প তার পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করবেন এবং প্রতিশ্রুতি দেবেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যায্য বিদেশী প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করবেন এবং শিল্পের একটি নতুন ‘স্বর্ণযুগ’ তৈরি করবেন।

ট্রাম্প এর আগে জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে টার্গেট করা দেশগুলোকে আঘাত করার জন্য পারস্পরিক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, বন্ধু ও শত্রু উভয়ের সাথেই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলায় এটিই একমাত্র হাতিয়ার।

ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছেন, শুল্ক শিল্পগুলোকে অন্যায্য বিদেশী প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করবে। ফেডারেল সরকারের জন্য অর্থ সংগ্রহ করবে এবং অন্যান্য দেশ থেকে ছাড় দাবি করার জন্য সুবিধা প্রদান করবে।

কিন্তু অর্থনীতিবিদরা জোর দিয়ে বলছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত হারে বিস্তৃত শুল্ক বিপরীতমুখী হতে পারে।

ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েকদিন আগে থেকেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকা দেশগুলো আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যান্য দেশগুলো যে ধরনের শুল্ক আরোপ করে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শুল্ক আরোপিত হবে বলে প্রাথমিকভাবে জানান ট্রাম্প।

সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে মিডিয়া জানিয়েছে, ট্রাম্প ২০ শতাংশ শুল্ক কমানোর কথাও বিবেচনা করছেন এবং কিছু দেশের ওপর অগ্রাধিকারমূলক আচরণ করা হতে পারে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ট্রাম্প ঘোষণার প্রাক্কালে তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সাথে একটি চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য বৈঠক করছেন।

তিনি আরো জানান, বুধবারের ঘোষণার পরে ‘অবিলম্বে’ শুল্ক কার্যকর হবে। অন্যান্য দেশের সাথে আলোচনার জন্য কোনো প্রকার বিলম্ব করা হবে না।

ট্রাম্প জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে বেশ কয়েকটি শুল্ক ঘোষণা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থেকেছেন।

তবে তার পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে মূল্য বৃদ্ধি ও ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটানোর এক ক্ষতিকারক বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডাসহ প্রধান অর্থনীতিগুলো প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মঙ্গলবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি কানাডার পক্ষ থেকে লড়াইয়ে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ নেয়ার কথা ব্যক্ত করেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মঙ্গলবার বলেছে, তারা এখনো একটি সমাধান নিয়ে আলোচনা করার আশা করছে তবে প্রতিশোধ নেয়ার প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ ও তাদের কাছে রয়েছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: