নিজের অফিসিয়াল পোট্রেইট দেখে ক্ষুদ্ধ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প : বিকৃতির অভিযোগ

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৪ মার্চ ২০২৫ ২১:০৬

ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত

কলোরাডো স্টেট ক্যাপিটলে ঝুলছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি প্রতিকৃতি। সেই প্রতিকৃতি দেখেই ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। বলেছেন, সেটি নাকি ইচ্ছাকৃত ভাবে বিকৃত করে আাঁকা হয়েছে।

উপরন্তু ছবিটি টাঙিয়ে রাখার জন্য কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট গভর্নর জ্যারেড পলিসকেও ট্রাম্প এক হাত নিয়েছেন। বলেছেন, পলিসের উচিত “নিজের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হওয়া। যদিও পলিসের আমলে ট্রাম্পের এই প্রতিকৃতি আঁকা হয়নি। বরং এটি আঁকা হয়েছিল রিপাবলিকান স্টেট সেনেটর কেভিন গ্রান্থামের উদ্যোগে।

ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ জানায়, কলোরাডোর রিপাবলিকানরা ১০ হাজার ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করে চিত্রশিল্পী সারা বোর্ডম্যানকে দিয়ে প্রতিকৃতিটি আঁকান, যা ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম দফার শাসনামলে উন্মোচন করা হয়েছিল।

সেই প্রতিকৃতি দেখেই রোববার রাতে ট্রুথ সোশালে এক তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট গভর্নর পলিস ও সারা বোর্ডম্যানকে আক্রমণ করেন। তিনি লেখেন, বোর্ডম্যান আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চমৎকার প্রতিকৃতি এঁকেছিলেন, কিন্তু পরে প্রতিভা হারিয়েছেন।

“কেউই নিজের খারাপ ছবি বা পেইন্টিং দেখতে পছন্দ করে না। তবে কলোরাডোর স্টেট ক্যাপিটলে গভর্নর যে প্রতিকৃতিটি টাঙিয়েছেন, সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে এতটা বিকৃত করা হয়েছে, যা আমি সম্ভবত এর আগে কখনও দেখিনি,” লেখেন ট্রাম্প।

"আমি তাদের পক্ষ থেকে বলছি, র‌্যাডিক্যাল লেফট গভর্নর জারেড পলিস, যিনি অপরাধের বিষয়ে চরম দুর্বল, বিশেষ করে ত্রেন দে আরাগুয়ার ক্ষেত্রে, যারা প্রায় অরোরা দখল করে ফেলেছিল (চিন্তা করবেন না, আমরা রক্ষা করেছি!), তিনি যেন এটি সরিয়ে ফেলেন," লেখেন ট্রাম্প। "জারেডের লজ্জা হওয়া উচিত!"

গভর্নরের দপ্তরের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে বলেন, "গভর্নর পলিস জানতে পেরে বিস্মিত হয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আমাদের কলোরাডো স্টেট ক্যাপিটলের শিল্পকর্মের প্রতি এত আগ্রহী। তবে গভর্নর পলিস এই প্রতিকৃতি আঁকানোর পেছনে ছিলেন না। এটি ২০১৮ সালে কমিশন করা হয়েছিল, যখন তিনি ক্ষমতায় আসেননি।”

২০১৯ সালের আগস্টে ট্রাম্পের প্রতিকৃতিটি উন্মোচনের পর বোর্ডম্যান বলেছিলেন, তার কাজ সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকবে। "পাঁচ, ১০, ১৫ বা ২০ বছর পর, তিনিও অন্যান্য প্রেসিডেন্টদের মতো শুধুমাত্র ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের অংশ হবেন। সে কারণেই তার প্রতিকৃতিকে নিরপেক্ষ দেখানো জরুরি," তখন বলেছিলেন তিনি।

একটি আলাদা সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ব্যক্তিগত মতাদর্শ তার কাজে প্রভাব ফেলে না। "আমি যখন একটি প্রতিকৃতি আঁকি, তখন শুধু ব্যক্তির চেহারা ও ‘সত্তা’ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। আমার ব্যক্তিগত অনুভূতিগুলো অপ্রাসঙ্গিক, তাই সেগুলো স্টুডিওর বাইরে রেখে আসি," বলেন বোর্ডম্যান।

ট্রাম্প আগেও ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউ ইয়র্কের দেওয়ানি প্রতারণা মামলার শুনানিতে নিজের একটি প্রতিকৃতি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: