অবৈধভাবে প্লুটোনিয়াম আমদানি ও বিক্রির দ্বায় স্বীকার করলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক

Maisha Mumtaz | ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩৭

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

রাশিয়া থেকে অনুমতি ছাড়া তেজস্ক্রিয় পারমাণবিক পদার্থ প্লুটোনিয়াম এনে অনলাইনে বিক্রি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক জ্যাকব ডি মিলার। প্রায় ৬৭ জন ক্রেতার কাছে বিপজ্জনক পদার্থটি ডাকযোগে পাঠিয়েছেন তিনি। ৪৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি অবৈধ আমদানিসহ পাঁচটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন।

ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল কৌঁসুলির দপ্তর সোমবার এসব তথ্য জানিয়েছে। মিলার যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিদেশের ক্রেতাদের কাছেও প্লুটোনিয়াম বিক্রি করেছেন।

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের এক বিক্রেতার কাছ থেকে পদার্থটি কিনতেন মিলার। সাউথ হ্যাডলির বাড়ি থেকে ২০১৭ সাল থেকে ‘কালেক্ট দ্য পিরিয়ডিক টেবিল’ নামে অনলাইন ব্যবসা চালাতেন তিনি। নিজের প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ‘বোনানজা’ নামের অনলাইন বিক্রয়মাধ্যমও ব্যবহার করতেন।

২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে প্লুটোনিয়াম আমদানি করেন মিলার। ডাকযোগে পাঠানো নিষিদ্ধ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের মাধ্যমে তা ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতেন। একইভাবে অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ থ্যালিয়ামও পাঠাতেন।

২০২৫ সালের এপ্রিলে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বোতলভর্তি বিস্ফোরক গুঁড়ার একটি বাক্স, বহু গুলি ও ছয়টি রাইফেল উদ্ধার করা হয়। আগে গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হওয়ায় এসব রাখা তার জন্য বেআইনি ছিল।

তার ল্যাপটপ ও মুঠোফোনে শিশু নির্যাতনের ছবি-ভিডিও পাওয়া যায়। তল্লাশি পরোয়ানা জারির আগের দিনও তিনি এসব দেখেছিলেন।

মিলার বেআইনিভাবে গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক রাখা, অনুমতি ছাড়া পারমাণবিক পদার্থ আমদানি, ডাকযোগে বিপজ্জনক পদার্থ পাঠানো এবং শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদান রাখার অভিযোগ স্বীকার করেছেন।

কৌঁসুলির দপ্তর জানিয়েছে, পারমাণবিক পদার্থসংক্রান্ত অভিযোগ ও শিশু নির্যাতনের উপাদান রাখার অভিযোগে পৃথকভাবে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বিচারক মার্ক জি মাস্ত্রোইয়ানি ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি সাজা নির্ধারণের শুনানি রেখেছেন।