রাশিয়া ও চীনকে ‘আর্টেমিস অ্যাকর্ডস’-এ যোগদানের ব্যাপারে শর্ত দিল নাসা

Maisha Mumtaz | ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫৬

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

মহাকাশ অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আর্টেমিস চুক্তির নীতিগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতে রাশিয়া ও চীনের অবস্থান মিললে তাদের এ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে নাসা। তবে বর্তমানে দুই দেশকে এসব নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানে দেখা যাচ্ছে না।

বুধবার তুরস্কের আনতালিয়ায় আন্তর্জাতিক মহাকাশচারী কংগ্রেসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাসার উপপ্রশাসক ম্যাট অ্যান্ডারসন এ কথা বলেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

ম্যাট বলেন, কোনো একসময় রাশিয়া ও চীন যদি আর্টেমিস চুক্তির নীতিগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানে আসে, তাহলে তাদের চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে বর্তমানে তাদের সে অবস্থানে দেখা যাচ্ছে না।

নাসার এই কর্মকর্তা বলেন, আর্টেমিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করা ৭৬টি দেশ মহাকাশে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়ে সম্মত নীতির ভিত্তিতে একটি অভিন্ন বন্ধনে যুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। চাঁদে একটি যৌথ গবেষণা ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। কিছু দেশ একই সঙ্গে আর্টেমিস চুক্তি ও চীন-রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন এই উদ্যোগের অংশ।

এ নিয়ে উদ্বেগ আছে কি না, জানতে চাইলে অ্যান্ডারসন বলেন, সার্বভৌম দেশগুলো কী করবে, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়। আর্টেমিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করার অর্থ কোনো দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ অনুসরণে বাধা তৈরি করা নয় বলেও জানান তিনি।

চুক্তির সদস্যদের নিয়ে মঙ্গলবার একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন অ্যান্ডারসন। পেরুর মহাকাশ সংস্থা কনিডার পরিচালক মেজর জেনারেল রবার্তো মেলগার শিনের সঙ্গে তিনি বৈঠকটির সহসভাপতিত্ব করেন। অ্যান্ডারসন জানান, এতে ৪০টির কিছু বেশি দেশ অংশ নেয়।

বৈঠকে মহাকাশের আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিস নিয়েও আলোচনা হয়েছে। চাঁদের পৃষ্ঠে জমে থাকা আবর্জনার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। মেলগার শিন জানান, এ বিষয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে।

অ্যান্ডারসন বলেন, মহাকাশে আবর্জনা বন্ধ বা তা মোকাবিলার প্রথম পদক্ষেপ হলো নতুন করে আবর্জনা তৈরি বন্ধ করা।

মহাকাশে অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, আর্টেমিস চুক্তির আওতা মূলত বেসামরিক মহাকাশ কর্মকাণ্ড। সামরিক বিষয় সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর এখতিয়ারভুক্ত।

তবে মহাকাশে কোনো ধরনের সশস্ত্র সংঘাত কেউই চায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, আর্টেমিস চুক্তির মূল লক্ষ্য শান্তিপূর্ণভাবে মহাকাশ অনুসন্ধান করা।