লুইসিয়ানায় মারাত্মক ভিব্রিও ভালনিফিকাস ব্যাকটেরিয়া নিয়ে নতুন সতর্কতা জারি

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৯ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৪৫

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

সমুদ্রের উষ্ণ নোনা বা আধা-নোনা পানিতে থাকা এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিয়ানায় নতুন করে সতর্কতা জারি হয়েছে। ভিব্রিও ভালনিফিকাস (Vibrio vulnificus) নামের এই ব্যাকটেরিয়া শরীরের খোলা ক্ষতের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢুকতে পারে। কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ সামুদ্রিক খাবার থেকেও সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিয়ানায় এখন পর্যন্ত ভিব্রিও ভালনিফিকাস সংক্রমণের ৯টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

ভিব্রিও ভালনিফিকাস হলো ভিব্রিও গোত্রের একটি ব্যাকটেরিয়া, যা সাধারণত উষ্ণ উপকূলীয়, নোনা ও আধা-নোনা পানিতে পাওয়া যায়। পানির তাপমাত্রা বাড়লে এর উপস্থিতিও বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, এই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হলে বিশেষ করে খোলা ক্ষত বা শরীরের নরম টিস্যুতে গুরুতর সংক্রমণ হতে পারে।

সমুদ্র বা উপকূলীয় নোনা পানির সংস্পর্শে শরীরে থাকা খোলা ক্ষত এলে ব্যাকটেরিয়াটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ শেলফিশ, বিশেষ করে কাঁচা ঝিনুক খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে।

সিডিসি-এর পরামর্শ, শরীরে খোলা ক্ষত থাকলে নোনা বা আধা-নোনা পানিতে না নামাই নিরাপদ। এমন পানির সংস্পর্শ এড়ানো সম্ভব না হলে ক্ষতটি জলরোধী ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখা এবং পরে সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ সামুদ্রিক খাবারও এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভিব্রিও ভালনিফিকাস সংক্রমণ অনেক সময় গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষতস্থানে লালচে ভাব, ব্যথা, ফোলা, উষ্ণতা ও ত্বকের রঙের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে পড়লে জ্বর, কাঁপুনি, রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া এবং ত্বকে ফোসকার মতো ক্ষত তৈরি হতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিস তৈরি করতে পারে—এতে ক্ষতের আশপাশের ত্বক ও নরম টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গুরুতর রোগীদের নিবিড় চিকিৎসা, মৃত বা আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অঙ্গচ্ছেদের প্রয়োজন হতে পারে। সিডিসি বলছে, ভিব্রিও ভালনিফিকাস আক্রান্তদের প্রায় পাঁচজনের একজন মারা যেতে পারেন।

‘মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া’ নামে পরিচিত হলেও এটি আক্ষরিক অর্থে মানুষের মাংস খেয়ে ফেলে না। বরং গুরুতর সংক্রমণে ত্বক ও নরম টিস্যু দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সবাই সংক্রমিত হতে পারেন। তবে লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, এইচআইভি বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের পানিতে নামার আগে শরীরে খোলা ক্ষত আছে কি না, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। একই সঙ্গে কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ সামুদ্রিক খাবার না খাওয়াও সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: