সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে ইরান ‘অবিশ্বাস্য প্রতারণাপূর্ণ’ আচরণ করছে—সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ক্ষুব্ধ মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রতিদ্বন্দ্বীকে অনুধাবন করতে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের চরম ব্যর্থতাকেই পুনর্বার প্রকাশ্যে এনেছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে জিমি কার্টার থেকে শুরু করে ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি প্রশাসনই তেহরানের জটিল ক্ষমতাকাঠামো এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মনস্তত্ত্ব বুঝতে হিমশিম খেয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ বিশ্লেষণে বিষয়টি বিস্তারিত উঠে এসেছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রম নীতি বিষয়ক পরিচালক সুজান ম্যালোনি এবং সিআইএ-এর সাবেক বিশ্লেষক কেনেথ পোলক জানান, আমেরিকার নীতিনির্ধারকরা বরাবরই ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির আদর্শিক প্রতিশ্রুতি এবং তাদের গভীরভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়া ক্ষমতাকাঠামোকে অবমূল্যায়ন করে আসছেন। ১৯৮০ সালে জিমি কার্টারের জিম্মি মুক্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়া, ১৯৮০-এর দশকে রোনাল্ড রিগ্যানের ‘ইরান-কন্ট্রা’ কেলেঙ্কারি কিংবা ১৯৯৭ সালে বিল ক্লিনটনের সংস্কারপন্থি ইরানি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা—সবই কট্টরপন্থি নেতৃত্বের অনমনীয়তার মুখে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি বারাক ওবামার ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তিও দুই দেশের বৈরিতার বরফ পুরোপুরি গলাতে পারেনি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে বের হয়ে এসে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগ করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের মধ্যেও তেহরানকে চাপে ফেলার নীতি কার্যকর করতে পারেনি ওয়াশিংটন। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর আমেরিকানরা সেখানে গণঅভ্যুত্থান এবং নতুন নমনীয় নেতৃত্বের আশা করেছিল। কিন্তু তেহরান উল্টো তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে। সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ডেনিস রস সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকানদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ এবং অস্থিরতাকে দরকষাকষির মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তেহরান কৌশলগতভাবে ওয়াশিংটনের চেয়ে সবসময় এক ধাপ এগিয়ে থাকছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: