সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন প্রগতিশীল জনস্বাস্থ্যকর্মী আবদুল আল-সাইয়েদ। ইসরায়েলপন্থি লবিং গোষ্ঠীগুলোর প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারের প্রচারণাকে ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি এই মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে এই ফলাফলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থি গোষ্ঠী ‘আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’ (এআইপিএসি)-এর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
আল-সাইয়েদকে পরাজিত করতে এআইপিএসি সরাসরি মাঠে নামে এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সের পক্ষে ৩০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করে। তবে ভোটাররা এসব নেতিবাচক প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে জনকল্যাণমুখী নীতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আরব আমেরিকান ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মায়া বেরি এই জয়কে 'বিরাট ঘটনা' হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ভোটাররা ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নিয়েছেন।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য চূড়ান্ত নির্বাচনে আবদুল আল-সাইয়েদ লড়বেন সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে মিশিগানের এই আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিশরীয় বংশোদ্ভূত আল-সাইয়েদ বিজয়ী হলে তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সিনেটর। গাজায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করা এই প্রার্থী মনে করেন, বিদেশ বিভুঁইয়ের যুদ্ধে অর্থ না ঢেলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করা উচিত। তার এই বিজয় মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে ডেমোক্রেটিক দলের অবস্থান পরিবর্তনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: