ফাইল ছবি
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের ব্যাংক হিসাব রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং অর্থপাচারবিরোধী (এএমএল) পর্যালোচনার ভিত্তিতে বন্ধ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ওয়ান ফিন্যান্সিয়াল।
সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আদালতে দাখিল করা এক নথিতে ব্যাংকটি ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের দায়ের করা মামলা খারিজের আবেদন জানিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে। এটাই প্রথমবারের মতো কোনো ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব বন্ধের সিদ্ধান্তের সঙ্গে অর্থপাচার-সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টি যুক্ত করল।
তবে ক্যাপিটাল ওয়ান স্পষ্ট করেছে, তারা কখনোই ট্রাম্প অর্গানাইজেশনকে অবৈধ অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেনি।
আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়, নথিপত্র এবং বাদীপক্ষের নিজের অভিযোগ থেকেই স্পষ্ট যে ক্যাপিটাল ওয়ান অর্থপাচারবিরোধী (এএমএল) কারণেই তাদের হিসাব বন্ধ করেছে। কয়েক মাসের বিশ্লেষণ এবং ব্যাংকের এএমএল দলের সতর্ক পর্যালোচনার পর, ব্যাংকের নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অনুসরণ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২০২১ সালের মার্চে ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট ৩০০টিরও বেশি ব্যাংক হিসাব বন্ধের পরিকল্পনার কথা জানায় ক্যাপিটাল ওয়ান।
এর চার বছর পর, ২০২৫ সালের মার্চে ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে ক্যাপিটাল ওয়ানের বিরুদ্ধে মামলা করে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন ও ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প। তাদের অভিযোগ, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিবেশকে কাজে লাগাতে এবং ‘ওয়োক’ নীতির কারণে ব্যাংকটি তাদের হিসাব বন্ধ করে দেয়।
তবে শুক্রবারের আবেদনে ক্যাপিটাল ওয়ান দাবি করেছে, সর্বশেষ সংশোধিত অভিযোগপত্রেও আগের মতো একই মৌলিক ত্রুটি রয়েছে।
ব্যাংকটি বলছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগগুলো ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং আদালতে উপস্থাপিত নথির আংশিক উদ্ধৃতির মাধ্যমে বিভ্রান্তিকরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ক্যাপিটাল ওয়ান আরও জানায়, ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের যেসব লেনদেনের ধরন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংকিং নির্দেশিকায় সন্দেহজনক কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত লেনদেনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ব্যাংকের ওপর চাপ বাড়িয়েছে তার প্রশাসন। রিপাবলিকানপন্থিদের অভিযোগ, কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক কারণে রক্ষণশীলদের ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত করছে।
২০২৫ সালের আগস্টে রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত কারণে বৈষম্যমূলকভাবে ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করার বিরুদ্ধে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প।
এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একই ধরনের অভিযোগে জেপিমরগান চেজ এর বিরুদ্ধেও মামলা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০১৯ সালে কংগ্রেসের তদন্তে তার আর্থিক নথি সরবরাহ ঠেকাতে ক্যাপিটাল ওয়ান ও ডয়েচে ব্যাংকের বিরুদ্ধেও মামলা করেছিলেন।
সে সময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ডয়েচে ব্যাংকের অর্থপাচারবিরোধী কর্মকর্তারা ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও ব্যাংকটি তখন ওই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছিল।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: