নিরাপত্তার কারণে নতুন চীনা হিউম্যানয়েড রোবট নিষিদ্ধ করলো যুক্তরাষ্ট্র

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৯ জুলাই ২০২৬ ২০:৪২

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ট্রাম্প প্রশাসন গতকাল এক ঘোষণায় জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিদেশে তৈরি নতুন হিউম্যানয়েড (মানবসদৃশ) রোবট যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। তবে খাতটিতে প্রধান অংশীদার হওয়ায় মূলত চীনকে লক্ষ্য করেই এ নিষেধাজ্ঞা। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছে দেশটি।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, উন্নতমানের রোবট আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে নিষেধাজ্ঞাটি। এর মধ্যে রয়েছে হিউম্যানয়েড রোবট এবং চার পায়ের রোবট। এসব রোবটের অনেকগুলোই চীনে তৈরি। আর বর্তমানে রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়নে চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

একই সঙ্গে ডাটা সেন্টার ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পাওয়ার ইনভার্টার আমদানিও নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি)। সংস্থাটির মতে, এসব যন্ত্রও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস বলেছে, বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্য ইস্যুকে ‘রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার’ এবং ‘ভিত্তিহীন অজুহাতে’ নিষেধাজ্ঞা আরোপের যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরোধিতা করে আসছে।

এফসিসি চেয়ারম্যান ব্রেন্ডান কার বলেন, সংস্থাটি ‘যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলকে নিরাপদ রাখতে’ দায়িত্ব পালন করছে।

এসব পণ্যকে এফসিসি ‘কাভার্ড লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি এমন পণ্য ও পরিষেবার তালিকা, যেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।

নিষেধাজ্ঞাটি নতুন বিদেশে তৈরি উন্নত রোবট এবং পাওয়ার ইনভার্টারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে আগে থেকেই এফসিসির অনুমোদনপ্রাপ্ত বিদ্যমান মডেলগুলোর আমদানি বা বিক্রির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।

এফসিসি জানিয়েছে, বিদেশে তৈরি ইনভার্টার ব্যবহারের ফলে বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো দূর থেকে সেগুলো বন্ধ, তথ্য চুরি করতে, অননুমোদিত দূরবর্তী প্রবেশাধিকার ও নজরদারির সুযোগ নিতে অথবা সাইবার হামলার মাধ্যমে সেগুলোকে অপব্যবহার করতে পারে।

সংস্থাটি আরো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি রোবট ব্যবহারের ফলে ‘অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন পক্ষ’ আমেরিকানদের ওপর নজরদারি চালাতে, বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার সক্ষমতা বাড়াতে বা দূর থেকে রোবটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে।

ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস আরো জানিয়েছে, চীনের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে এমন যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে বেইজিং ‘প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা’ নেবে। একই সঙ্গে তারা সব দেশকে ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে এআই উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

দূতাবাসের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ‘আধিপত্যবাদী মানসিকতা’ পরিত্যাগ এবং চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি বন্ধ করা।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা কমানোর চেষ্টা চালাতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন চীনা রফতানির ওপর ব্যাপক নজরদারি বাড়িয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) রফতানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও উচ্চ শুল্কের কারণে চীন কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে বাইরে রয়েছে।

এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা, চীনের সামরিক আধুনিকায়নের গতি কমানো এবং এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগণ্য অবস্থান ধরে রাখতে ওয়াশিংটন উন্নতমানের যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর চীনের কাছে বিক্রিও বন্ধ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগে চীনের এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

এর জবাবে চীনা সরকার বলেছে, তাদের দেশের এআইর বিকাশ ‘নিজস্ব প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফল’।

গত বছর চীন ইলেকট্রনিক্স শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজের রফতানির ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছিল। তখন বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে যে সংকট তৈরি হয়েছিল।

চীনের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কারখানা ও বাড়িসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য দ্রুতগতিতে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি করছে।

এছাড়া ইলন মাস্কের টেসলা ও বোস্টন ডায়নামিকসের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের আগেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের কাছে এসব রোবট বাজারজাত করতেও দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: