ফাইল ছবি
আমেরিকান প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর ওপর আরোপ করা জরিমানার প্রতিবাদে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিরুদ্ধে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইইউর ২৭ সদস্য দেশের ওপর ‘বড় ধরনের’ শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমেরিকান কোম্পানি এবং এর মাধ্যমে আমেরিকান করদাতাদের লুট করছে।
সম্প্রতি আমেরিকান টেক জায়ান্ট গুগলকে প্রায় ১০০ কোটি ডলার জরিমানা করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগ, নিজেদের সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনলাইন সার্চ বাজারে প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে গুগল।
ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন আবারও একই কাজ করছে এবং বরাবরের মতোই মহান আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।’ তিনি গুগলের পাশাপাশি অ্যাপল, মেটা ও অ্যামাজনের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আগের জরিমানার বিষয়ও উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, গুগলের বিরুদ্ধে সর্বশেষ জরিমানা ‘কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই’ দেওয়া হয়েছে। তবে ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, গুগলের ওপর আরোপ করা ৮৯ কোটি ইউরোর জরিমানার কারণ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (ডিএমএ) না মানা। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য এই আইন তৈরি করা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসনের সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমন আচরণ আর চলবে না। তিনি লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের কোনো ‘পিগিব্যাংক’ নয়, এবং আমরা তা হতে দেব না।”
ট্রাম্প জানান, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ তদন্ত শুরু করবে। এই ধারার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এমন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অন্যায্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হয়।
ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ব্যবহারে একাধিক তদন্ত শুরু করেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৮০টির বেশি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার বিকেলে এসব শুল্কের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
লিবার্টি জাস্টিস সেন্টার দুটি ছোট ব্যবসার পক্ষে মামলাটি করেছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে ট্রাম্পের ২০২৫ সালের তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক কার্যকর করার চেষ্টা করছে, যা চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছিল।
ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতি এই অবৈধ ও অত্যন্ত অনৈতিক আচরণের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বড় মূল্য দিতে হবে। আমি তাদের এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে সতর্ক করে আসছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই জরিমানাগুলো পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে এবং আমরা আশা করছি, যত দ্রুত সম্ভব তাদের ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করা হবে। অপেক্ষা করুন।’
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: