‘ইরান যুদ্ধ চুক্তি’কে স্থায়ী করতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২০ জুন ২০২৬ ১৮:৫৪

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ‘ইরান যুদ্ধ চুক্তি’কে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার উদ্দেশ্যে প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দুজনেই সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন। ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের জেরে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেছিলেন।

তবে শুক্রবার লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সাথে যোগ দিতে বিশেষ দূত উইটকফ সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি শনিবার সেখানে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে। সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে এই কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল সংঘাত থামানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য জটিল ইস্যুগুলোর স্থায়ী সমাধানের জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা। লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া এই বৃহত্তর চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সিনিয়র সূত্র জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহযোগিতায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরাইলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইসরাইলি কর্মকর্তা জানান, হিজবুল্লাহ যদি আমাদের আক্রমণ না করে, তবে আমাদের জন্যও এটি যুদ্ধের সময় নয়। তবে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে তাদের দখলকৃত সীমান্ত অঞ্চলে সেনা মোতায়েন রাখবে বলে জানিয়েছে।

এদিকে, ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে শুরু হওয়া এই ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত মূলত ইরান ও লেবাননে অন্তত ৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি ও লেবাননে যুদ্ধবিরতির খবরের পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম চলতি সপ্তাহে প্রায় ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী ইরান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি, বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত এবং তেল রপ্তানির সুযোগ পাবে।

একই সাথে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল ও অন্যান্য আর্থিক প্রণোদনা রয়েছে। ওয়াশিংটনে এই চুক্তি নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, যুদ্ধ ইরানকে দুর্বল করে দিয়েছে। আমরা কোনো মরিয়া হয়ে আলোচনায় বসিনি, ইরান বসেছে। আগামী ৬০ দিন আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। তারা এখনই কোনো টাকা পাচ্ছে না, এক পয়সাও না।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: