সান ডিয়েগোর মসজিদে গুলির ঘটনায় নিহত ৫

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১৯ মে ২০২৬ ২৩:০৭

ফাইল ছবি ফাইল ছবি
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোর সবচেয়ে বড় মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষা কমপ্লেক্সে গোলাগুলিতে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই বন্দুকধারীও আছেন। 
 
নিহত হওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজনদের একজন স্থানীয় একটি স্কুলের রেসলার। স্থানীয়ারা এবং ওই কিশোরের সহপাঠীরা তাকে ‘ভালো ছেলে’ বলে আখ্যা দিচ্ছে। ফলে সে কেন এমন প্রাণঘাতী হামলায় অংশ নিল, সে বিষয়টি তারা কোনোভাবেই মেলাতে পারছে না। আরেক সন্দেহভাজন তার মায়ের অস্ত্র ও গাড়ি নিয়ে পালিয়েছে।
 
সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল সোমবার সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে বন্দুক হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজনদের একজন ছিল ১৭ বছর বয়সী হাইস্কুল কুস্তিগির। তার পরিবার তাকে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি করেছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র এবং পুলিশ ডিসপ্যাচের তথ্যে তার নাম শনাক্ত করা হয়েছে কেইন ক্লার্ক হিসেবে।
 
সান ডিয়েগো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের মুখপাত্র জেমস ক্যানিং জানান, ক্লার্ক আগে কেট সেশন্স এলিমেন্টারি স্কুল এবং সান ডিয়েগো স্কুল অব ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টসে পড়াশোনা করেছিল। পরে ২০২১ সালে তার পরিবার তাকে ‘আইহাই ভার্চুয়াল একাডেমি’ নামের একটি অনলাইন শিক্ষা কর্মসূচিতে ভর্তি করে।
 
ক্যানিং বলেন, ম্যাডিসন হাইস্কুল ক্লার্কের নির্ধারিত স্থানীয় স্কুল হওয়ায় সে সেখানে বিভিন্ন কার্যক্রম ও খেলাধুলায় অংশ নিত। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সে স্কুলটির রেসলিং দলের সদস্য ছিল। তবে চলতি বছরে সে কোনো স্কুল কার্যক্রমে অংশ নেয়নি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে স্কুলের রেসলিং দল ইনস্টাগ্রামে পোস্ট দিয়ে ক্লার্ককে অভিনন্দন জানিয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, সে একটি টুর্নামেন্টে প্রথম স্থান অর্জন করে পুরস্কার জিতেছে।
 
ক্যানিং আরও বলেন, ক্লার্ক স্নাতক সম্পন্ন করার পথেই ছিল এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৫ সালে একবার কারও পায়ে ঘুষি মারার ঘটনা ছাড়া তার বিরুদ্ধে আর কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ড ছিল না।
 
এদিকে, ওই ১৭ বছর বয়সী সন্দেহভাজনের স্বজনেরা জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি শুনে হতবাক। তারা কেইন ক্লার্ককে ‘ভালো ছেলে’ হিসেবেই চিনত। কেইনের দাদা-দাদি ডেভিড ও ডেবোরাহ ক্লার্ক বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করছি এবং যা ঘটেছে, তার জন্য আমরা খুবই দুঃখিত।’
 
কেইনের সাবেক রেসলিং সতীর্থ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি ক্লার্ককে এমন একজন হোমস্কুলড শিক্ষার্থী হিসেবে মনে করে, যে বন্ধু বানানোর চেষ্টা করত এবং দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চাইত। তিনি বলেন, ‘ওকে ভালো ছেলে বলেই মনে হতো। এমন কিছু সে করতে পারে বলে মনে হয়নি।’ সেই সতীর্থ আরও বলেন, তিনি কখনো ক্লার্ককে ইসলামবিদ্বেষী বা বর্ণবাদপ্রসূত কোনো মন্তব্য করতে শোনেননি। তাকে সহিংস আচরণ করতেও দেখেননি।
 
অপর দিকে, শহরের পুলিশপ্রধান জানান—হামলার ঘটনায় জড়িত অপর কিশোর সন্দেহভাজন তার মায়ের বাড়ি থেকে তিনটি অস্ত্র নিয়ে যায়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর সে সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে হামলা চালায়। পুলিশপ্রধান স্কট ওয়াহল সাংবাদিকদের বলেন, ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরের মা পুলিশকে জানিয়েছিলেন—তাঁর ছেলে এবং গাড়ি নিখোঁজ। একই সঙ্গে ‘তাঁর কয়েকটি অস্ত্রও’ বাড়ি থেকে উধাও ছিল।
 
তাঁর ভাষায়, এসব উদ্বেগজনক তথ্যের কারণে কিশোরটির অবস্থান খুঁজে বের করতে গিয়ে ‘অনেক বড় পরিসরের হুমকি মূল্যায়ন’ শুরু করা হয়।
 


আপনার মূল্যবান মতামত দিন: