কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২ মে ২০২৬ ২১:৩৫

ছবি: গ্রাফিক্স ছবি: গ্রাফিক্স

কংগ্রেসের পর্যালোচনা এড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের কাছে ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েল, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে এসব অস্ত্র বিক্রি করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর ৯ সপ্তাহ পর এ সিদ্ধান্ত এসেছে। এছাড়া বর্তমানে কার্যকর নাজুক যুদ্ধবিরতির তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ এসব দেশের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্র বিক্রি প্রয়োজন। এজন্য কংগ্রেসের পর্যালোচনার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ঘোষণায় বলা হয়, কাতারের কাছে ৪ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের প্যাট্রিয়ট বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ সেবা এবং ৯৯২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেমস (এপিকেডব্লিউএস) বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের কাছে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সমন্বিত যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ইসরায়েলের কাছে ৯৯২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের এপিকেডব্লিউএস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ১৪৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের এপিকেডব্লিউএস বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, কাতার, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এপিকেডব্লিউএস বিক্রির প্রধান ঠিকাদার ছিল বিএই সিস্টেমস। অন্যদিকে কুয়েতের কাছে সমন্বিত যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং কাতারের কাছে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ সেবার ক্ষেত্রে প্রধান ঠিকাদার ছিল আরটিএক্স করপোরেশন ও লকহেড মার্টিন। এছাড়া কুয়েতের চুক্তিতে নর্থরপ গ্রুমানও একটি প্রধান ঠিকাদার হিসেবে যুক্ত ছিল।

বছরের পর বছর ধরে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটন সমালোচনার মুখে পড়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এসব দেশে সংখ্যালঘু, সাংবাদিক, ভিন্নমতাবলম্বী, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় ও শ্রমিকদের ওপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও নির্যাতন রয়েছে। তবে এসব দেশ নিজেদের বিরুদ্ধে আনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এতে কয়েক দশ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে এবং কিছু গবেষক ও জাতিসংঘের একটি তদন্তে এটিকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েল বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলায় ১,২০০ মানুষ নিহত হওয়ার পর তারা আত্মরক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: