ফাইল ছবি
ন্যাটোর তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি গ্রিনল্যান্ডকে নতুন করে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথে স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যখন আমাদের প্রয়োজন ছিল, তখন ন্যাটো পাশে ছিল না, আর ভবিষ্যতেও থাকবে না। গ্রিনল্যান্ডের কথা মনে রাখুন। বড়, খারাপভাবে পরিচালিত একটি বরফের খণ্ড!
তিনি অভিযোগ করেন, ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর ওপর ‘স্পষ্টতই হতাশ’। হোয়াইট হাউসে একান্ত বৈঠকের পর এই মন্তব্য করেন রুটে। এর কিছুক্ষণ আগেই ট্রাম্প ন্যাটোকে সমালোচনা করে বলেন, যখন আমাদের প্রয়োজন ছিল তখন তারা পাশে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।
পরবর্তীতে ট্রাম্প সরাসরি জোট ছাড়ার কথা বলেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান। তবে তিনি বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, তিনি অনেক ন্যাটো মিত্রের ওপর হতাশ এবং আমি তার দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারি। একই সঙ্গে রুটো উল্লেখ করেন, ইউরোপের অধিকাংশ দেশ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে। তারা ঘাঁটি ব্যবহার, লজিস্টিক সহায়তা, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
ন্যাটো মহাসচিব বলেন, ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ তাদের অঙ্গীকার পূরণ করেছে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সম্ভব হয়েছে। যদিও সবাই তা করেনি এবং এ কারণে হতাশার বিষয়টি আমি বুঝতে পারি। তবে পুরো চিত্রটি আরও সূক্ষ্ম।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে রুটো বলেন, না। ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে ন্যাটোর দীর্ঘদিনের অবস্থান রয়েছে। ইরান যেন কখনও এই সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে বিস্তৃত সমর্থন রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী কঠোর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রুটো সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, আমি প্রেসিডেন্টকে সমর্থন করি এবং ইউরোপের বড় একটি অংশও ইরানের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সক্ষমতা কমানোর পদক্ষেপকে সমর্থন করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরান ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টার অন্যতম সহায়তাকারী। রুটো বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেয়। তবে দীর্ঘ আলোচনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি ‘উত্তর কোরিয়ার পরিস্থিতির’ মতো একটি অবস্থার আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যেখানে দেরি করতে করতে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন হয়ে যেতে পারে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: